ঢাকায় ‘সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র-জনতার’ কর্মসূচিতে ‘স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টি’ নামে সংগঠনের হামলার ঘটনার প্রতিবাদে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাঙামাটির কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণ থেকে ‘সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র-জনতা, রাঙামাটি’র ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদের সামনে পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে ফিলে আসে। এরপর রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে একটি সমাবেশ করে। রাঙামাটি- চট্টগ্রাম মহাসড়কে সব ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল।
ঢাকায় সমাবেশে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন, ঢাকার মতো শহরে ‘আদিবাসীদের’ ওপর হামলা একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। উগ্র-মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সংগঠন ‘স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টি’ সংগঠনটি মূলত আদিবাসীদের পূর্ব-নির্ধারিত কর্মসূচি বানচাল করার হীন উদ্দেশ্যে এ হামলা করেছে। এর দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনোভাবে এড়াতে পারে না। পাঠ্যপুস্তকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিটি পুনর্বহাল এবং ঢাকায় মতো জায়গায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের বিচারের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনও ধরণের আশ্বাস পাওয়া যায়নি। এতে সারাদেশে বসবাসরত ‘আদিবাসী’ জনগোষ্ঠীরা চরম নিরাপত্তাহীন বোধ করছে।
সমাবেশে অবিলম্বে ঢাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
রাঙামাটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সুজন চাকমার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি রাঙামাটি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমিত্র চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রুমেন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শান্তিদেবী তঞ্চঙ্গ্যা, তঞ্চঙ্গ্যা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফোরামের সদস্য সবুজ তঞ্চঙ্গ্যা ও রাঙামাটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী উজাই মারমা।
পরে সমাবেশ শেষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ৫ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
ডিজে