চট্টগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধার ৭৫ বছর বয়সী স্ত্রী ছালেহা বেগম ও তার প্রতিবন্ধী ছেলেসহ পরিবারকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মাঈনদ্দিনকে খুলশী থানায় নিয়ে গিয়ে অশোভন আচরণ করে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন ছালেহা বেগম।
মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও প্রতিবন্ধী সন্তানকে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন ছালেহা বেগম।
স্থানীয় মাহফুজুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ মারুফ, মোহাম্মদ নিশাদ ও মোহাম্মদ রিয়াদ সন্ত্রাসী কায়দায় জোরপূর্বক ঘর দখল করেছে বলে অভিযোগ ছালেহার। মাহফুজুর রহমান তার আপন ছোট ভাই বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
ছালেহা বেগম বলেন, ‘১৯৯১ সালে আমার মুক্তিযোদ্ধা স্বামী মারা যাওয়ার পর অতিকষ্টে আমরা জীবন যাপন করছি। লালখানবাজারের শামশু কলোনী এলাকায় সরকারি খাস জমিতে টিনের ঘরে বসবাস করে আসছি। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডারের সুপারিশে বৈধভাবে একটি বিদ্যুতের মিটার বরাদ্দ পাই। আমাদের গত ১৬ এপ্রিল ঘর থেকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। আবার ঘরে প্রবেশ করলে মেরে লাশ ঘুম করার হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা।’
তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে ঘর থেকে বের করার পর আমার ছেলে মাঈনউদ্দিন ৯৯৯ এ কল দেয়। এরপর পুলিশ এসে আমাদেরকে ঘরে প্রবেশ করতে কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি। উল্টো আমার ছেলেকে থানায় নিয়ে গিয়ে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাহফুজুর রহমান আমার ছোট ছেলে মাঈনুদ্দিনের কাছ থেকে ফ্ল্যাট দেওয়া কথা বলে ১২ লাখ টাকা নেয়। এরপর মাহফুজুর রহমানের কাছ থেকে ফ্ল্যাট কখন বুঝিয়ে দিবে জানতে চায়। তখন মাহফুজ তখন বলেন, “তুই ফ্ল্যাটও পাবি না, টাকাও পাবি না। তোর ১২ লক্ষ টাকা থেকে খুলশী থানায় ১ লক্ষ টাকা খরচ করলে এবং ১ লক্ষ টাকা স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মধ্যে খরচ করলে তুই বর্তমানে যেখানে আছি সেখানে থাকতে পারবি না। তোদেরকে ওই জায়গা থেকে পুলিশ এবং সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় উচ্ছেদ করা হবে।”‘
সংবাদ সম্মেলনে মাঈনউদ্দিন বলেন, ‘এ বিষয়ে থানার ওসি তদন্ত আমাকে বলেছেন, ওরা (মাহফুজুর রহমান ও তার ছেলে) তোমার জায়গায় জোরপূর্বক ঢুকেছে, তুমিও লোকজন নিয়ে তোমার জায়গায় ঢুকে যাও।’
পুলিশের এমন কথা শুনে আমরা থানা থেকে চলে আসছি। আমার পরিবার ও আমার বৃদ্ধ মাকে নিয়ে নিরাপত্তা হীনতায় আছি। সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচাতে ও আমাদের ঘর ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এ বিষয়ে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘তারা ভাইবোনদের মধ্যে জমির বিরোধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। পুলিশের কাছে কারো জমি দখল-বেদখল করার ক্ষমতা নেই। আদালত অথবা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তাদেরকে জমির বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য বলেছি। গত পরশু তারা জমি নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিলে তাদেরকে সতর্ক করেছি। যাতে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে।’
আরএম/এমএফও