চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতবিনিময় সভায় তুমুল বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এস ময় কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। পরে ১০ মিনিট পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
সভায় শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র নির্মাণে শিক্ষার্থীদের করণীয় নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপি বক্তব্য ও প্রশ্নোত্তরে কথা বলেন তিনি।
প্রশ্নোত্তর পর্বের এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সাথে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলে এই বাগবিতণ্ডা। হাসনাত আব্দুল্লাহ ও চট্টগ্রামের সমন্বয়রা অনেক অনুরোধ করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হোন।
মতবিনিময় সভা চলাকালে ইসলামিক অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের আস্থার, ভরসার জায়গা ছিল আমাদের সমন্বয়ক ভাইয়েরা। আজকে যারা আন্দোলনের নাম দিয়ে আসতে চাচ্ছে, তারা শেখ হাসিনার দোসর ছিল অতীতে। তারা সন্ত্রাসের দোসর ছিল।’
শাখাওয়াতের এই বক্তব্যের পর শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করার একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
মতবিনিময় সভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘যখন বিভাজনের সময় আসে তখন আমরা এক হয়ে যাই। যেমন ৪৭’র দেশভাগের সময়, ৯০’র অভ্যুত্থানে, ২৪’র গণঅভ্যুত্থানে আমরা এক হয়ে গেছিলাম। এ সময় আমরা কাউকে জিজ্ঞেস করেনি কে সরকারি চাকরি করে, কে করে না—কে বিসিএস ক্যাডার, কে ক্যাডার না— এভাবে পৃথিবীর সবকিছুতেই ভাঙার সময় এক হয়ে যাই, কিন্তু যখন গঠনের সময় আসে তখন বিভাজন হয়ে যাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘২৪’র গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্টের আগে আমাদের মাঝে কোন ধরনের বিভেদ ছিল না। যখন রাষ্ট্র সংস্কারের ও পুনর্গঠনের প্রশ্ন এসেছে তখনই বিভাজন তৈরি হয়েছে। যেমন হয়েছিল ৪৭ এর পর মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে। ঠিক তেমনি ৭১ সালেও।’
এসময় কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাসেল আহমেদ, কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক খান তালাত রাফিসহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এমআইটি/সিপি