গত ১৩ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে লালদিঘি মাঠ প্রস্তুত না থাকায় মাঠ সংকটের কারণে স্থগিত করা হয় জব্বারের বলী খেলা ও মেলা। এর তিন দিনের মাথায় ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের আব্দুল জব্বারের বলী খেলা ও বৈশাখী মেলার ১১৩ তম আসর আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।
শনিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে মেয়রের নিজ বাসভবনে আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও মেলা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন মেয়র।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘লালদিঘীর সড়কে তিনদিন বৈশাখী মেলা হবে, জেলা পরিষদ চত্বরে বলী খেলার আয়োজন হবে। কোনো কিছু বাদ যাবে না।’
মেয়র আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলা আগামী ২৫ এপ্রিল (১২ বৈশাখ) বিকেল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত বলিখেলা হবে জেলা পরিষদ চত্বরে। আর বলী খেলা ঘিরে ২৪, ২৫ ও ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে মেলা। তবে আগামীবার থেকে লালদীঘি মাঠেই হবে এই আয়োজন।’
এর আগে, গত ১৩ এপ্রিল লালদীঘি মাঠ উন্মুক্ত না হওয়ায় বলী খেলা ও মেলার আয়োজন হবে না বলে জানায় আয়োজক কমিটি। পরে এ নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হলে বলী খেলা ও মেলা আয়োজনের দায়িত্ব নেন মেয়র।
চট্টগ্রামের বদরপতি এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর কুস্তির প্রবর্তন করেছিলেন যা চট্টগ্রাম অঞ্চলে ‘বলী খেলা’ নামে পরিচিত। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সনের ১২ বৈশাখ তারিখের আবদুল জব্বার নিজ নামে লালদীঘির মাঠে এ বলী খেলার সূচনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর লালদীঘির মাঠে ১২ বৈশাখ অনুষ্ঠিত হয় বলী খেলা। গত দুই বছর করোনার সংক্রমণের কারণে বলী খেলা ও মেলা হতে পারেনি।
মেলা আয়োজক কমিটির সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি জহর লাল হাজারী, সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল ও সাবেক কাউন্সিলর জামাল হোসেন প্রমুখ।
এমএ/এমএহক