আকর্ষণীয় নয় চট্টগ্রাম বন্দর, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে উষ্মা

কাস্টমস নিয়ে বন্দরের নালিশ যাবে অর্থমন্ত্রীর কাছে

0

বিদেশি বন্দরের মতো চট্টগ্রাম বন্দর অতটা আকর্ষণীয় নয়। চট্টগ্রাম বন্দরের অনেক ‘উন্নয়ন’ হলেও তা বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সমন্বিতভাবে করা হয়নি।

এমন কথা জানিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম। চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক এবং দর্শনীয় বন্দরে উন্নীত করতে পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপরও এ সময় গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে কাস্টমসের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে এ ব্যাপারে সহযোগিতা মিলছে না বলেও অভিযোগ করা হয় বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।

স্থায়ী কমিটির সভাপতির উষ্মার জবাবে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান এম শাহজাহান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা কালক্রমে বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে। ফলে ১৩৪ বছরের পুরনো বন্দরটিকে পরিকল্পনামাফিক গুছিয়ে দর্শনীয়ভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। যেহেতু এটি একটি ব্রাউনফিল্ড বন্দর, তাই এটিকে পরিকল্পনামাফিক গোছানো দুরূহ ব্যাপার। তারপরও বন্দরটিকে যতটুকু সম্ভব ‘রিমডেলিংয়ের’ মাধ্যমে সুন্দরভাবে গুছিয়ে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ও দর্শনীয় বন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের গ্রিন ফিল্ড প্রজেক্ট বে-টার্মিনাল এলাকায় পরিকল্পিতভাবে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ও আকর্ষণীয় বন্দর সুবিধাদি নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, করোনায় চট্টগ্রাম বন্দরের ৫৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মারা গেছেন। এরপরও বন্দর একমুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি। ২০২১ সালে এই বন্দর রেকর্ড পরিমাণ ৩ দশমিক ২১ মিলিয়ন টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল করেছে।

ওই বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ অব প্ল্যানিং মো. মাহবুব মোরশেদ চৌধুরী পাওয়ার পয়েন্টে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, একটি আদর্শ বন্দরে প্রায় ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি থাকা সুবিধাজনক। চট্টগ্রাম বন্দরে এ অতিরিক্ত যন্ত্রপাতির ঘাটতি আছে। চলমান একটি প্রকল্পের আওতায় ১০৪টি বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওই প্রকল্প শেষ হলে বর্তমান সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা যায়।

এ সময় তিনি চট্টগ্রাম কাস্টমসের অসহযোহিতার কথা তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টমসের অকশন (নিলাম) প্রক্রিয়া জটিল ও ধীরগতির হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৭০০০ টিইইউ অকশন কনটেইনার দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। এ বিষয়ে কাস্টমসকে বারবার চিঠি দেওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ করেও কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না।

মাহবুব মোরশেদ চৌধুরী বলেন, বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় পুরাতন কাস্টমস অকশন গোলাটির বদলে নতুন করে একটি কাস্টমস অকশন গোলা নির্মাণ করে চট্টগ্রাম বন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করেছে। কিন্তু এখনও পুরাতন কাস্টমস অকশন গোলাটি স্থানান্তর করা হয়নি। পুরাতন অকশন গোলাটির স্থানান্তরের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ থেকে এ ব্যাপারে এখনও কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এ পর্যায়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করার পরামর্শ দেন বন্দর কর্মকর্তাদের।

সংসদীয় কমিটির এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মো. মজাহারুল হক প্রধান, রণজিত কুমার রায়, সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, মো. আছলাম হোসেন সওদাগর এবং এসএম শাহজাদা।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm