আগ্রাবাদে আর নয়, চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীরা টিকা নেবে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে
রীমা ও সেভেন-ইলেভেন কমিউনিটি সেন্টারে টিকাদান চলবে
চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের আবদুল্লাহ কমিউনিটি সেন্টারে আর টিকা দেওয়া হবে না মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) থেকে। ওইদিন থেকে এই কমিউনিটি সেন্টারের বদলে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হবে চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের সম্মেলন কক্ষ ছাড়াও আরও দুটি কক্ষে। শিক্ষার্থীদের মাত্রাতিরিক্ত ভিড় এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।
সোমবার (১০ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত তিনটি টিকাদান কেন্দ্র— রীমা কমিউনিটি সেন্টার, আবদুল্লাহ কমিউনিটি সেন্টার এবং সেভেন-ইলেভেন কমিউনিটি সেন্টারে মোট ১৭ হাজার ৭০৬ জনকে করোনার টিকা ফাইজারের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে চট্টগ্রাম মহানগরের স্কুল ও কলেজে অধ্যয়নরত ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ছাত্র-ছাত্রীদের করোনার টিকা দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম নগরীর ভেতরে তিনটি স্থান ঠিক করে সিভিল সার্জনের কার্যালয়। এগুলো হচ্ছে— নগরীর জামালখানের রীমা কমিউনিটি সেন্টার, আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের আবদুল্লাহ কমিউনিটি সেন্টার এবং দেওয়ানবাজার নবাব সিরাজদ্দৌলা রোডের হল সেভেন ইলেভেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) থেকে টিকাদান কেন্দ্র হিসেবে রীমা কমিউনিটি সেন্টার ও হল সেভেন ইলেভেন ঠিক থাকলেও আবদুল্লাহ কমিউনিটি সেন্টারের বদলে চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের সম্মেলন কক্ষকে নতুন টিকাদান কেন্দ্র নির্ধারণ করা হল।
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে টিকা ছাড়া ১২ বছর থেকে এর বেশি বয়সী কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
এদিকে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ১২-১৮ বছর বয়সী সব শিক্ষার্থীর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে শনিবার (৮ জানুয়ারি) নির্দেশনা পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মাউশির নির্দেশনায় বলা হয়, ১২-১৮ বছর বয়সী সব শিক্ষার্থীকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গত ৩০ ডিসেম্বর বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি রাতে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধনের শর্ত শিথিল করে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০০১ সালের পর জন্ম নেওয়া শিশুর জন্মনিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধন নম্বর দিতে হবে না।
শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনতেই সরকার জন্মনিবন্ধন করার শর্ত শিথিল করেছে তাতে জানানো হয়।
ওই অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য জন্মনিবন্ধন আবশ্যক। ২০০১ সালের পর জন্ম নেওয়া শিশুর জন্মনিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিডিআরআইএস সফটওয়্যারে বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধন নম্বর দেওয়ার নিয়ম আছে। ছাত্র-ছাত্রীদের কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন দেওয়া ও সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের জন্য পিতা-মাতার জন্মনিবন্ধন ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সিপি