দেশে আরও তিনটি উপজেলার অনুমোদন দিল সরকার। এর মধ্যে একটি কক্সবাজারে। নতুন এই তিন উপজেলাতেই আগে থেকে থানা ছিল। এ নিয়ে দেশে মোট উপজেলার সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৯৫টি।
সোমবার (২৬ জুলাই) প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নতুন এই তিন উপজেলার অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সোমবারের বৈঠকে কক্সবাজারের সদরের ঈদগাঁও, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার এবং সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার উপজেলার মধ্যনগর থানাকে উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে এলাকাবাসীর দাবিতে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলাকে শান্তিগঞ্জ নামকরণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এলাকার লোকজনের অসুবিধা হচ্ছিল মূল উপজেলা থেকে দুর্গম এলাকায় এসব থানা হওয়াতে। এসব থানাকে উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’
ঈদগাঁও জাতীয় সংসদের ২৯৬ নং নির্বাচনী এলাকা কক্সবাজার-৩ এর অংশ। এই এলাকার যোগাযোগের প্রধান সড়ক হল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রধান অতিথি হিসেবে কক্সবাজার সদরে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ঈদগাঁও থানা’ উদ্বোধন করেন।
কক্সবাজার সদরের সমৃদ্ধ ও বর্ধিষ্ণু জনপদ ঈদগাঁও গৌড়যুগে পরিচিত ছিল নয়াবাদ নামে। উত্তরাধিকারের ভ্রাত্বঘাতীযুদ্ধে পরাজিত হয়ে মোগল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহসুজা সৈন্যসামন্ত নিয়ে ভারতবর্ষ থেকে আরাকান পালিয়ে যাওয়ার সময় তৎকালীন নয়বাদ এলাকায় পৌঁছলে পবিত্র ঈদুল ফিতর সমাগত হওয়ায় এখানে সৈন্যসামন্ত,আমির ওমরা সহ ঈদের নামাজ আদায় করেন। তৎকালীন নয়াবাদ তখন থেকেই ঈদগাঁও নামে পরিচিত হয়। শাহাজাদা সুজা ঈদের নামাজ আদায় করে পুনরায় আরাকান অভিমুখে যাত্রা করলেও মোগল রাজপুত্রের ঈদের নামাজের স্মৃতি বিজড়িত এ স্থান কালক্রমে ঈদগাঁও নামেই পরিচিতি লাভ করে ও পরবতীতে ব্রিটিশ আমলে বিভিন্ন সরকারিনথিপত্রে ঈদগাঁও নামে লিপিবদ্ধ ও পরিচিত হয়।