চট্টগ্রামে নদী দখলদার সাড়ে ১৬ হাজার, উচ্ছেদের সংখ্যাও দেশে সবচেয়ে কম
সারাদেশে অবৈধ নদী দখলদার ৪৩ হাজার ৬৪২
দেশে নদী দখলদারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রাম বিভাগেই। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১ হাজার ৮৬৯ নদী দখলদারকে উচ্ছেদের পরও চট্টগ্রাম বিভাগে রয়ে গেছে আরও ১৬ হাজার ৬৬৮ জন অবৈধ দখলদার। নদী দখলে চট্টগ্রামের পরেই ঢাকার অবস্থান।
চট্টগ্রামসহ সবমিলিয়ে দেশে এখন ৪৩ হাজার ৬৪২ নদীর অবৈধ দখলদার রয়ে গেছে।
তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যেসব বিভাগে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি সেখানেই বেশি নদী দখল হচ্ছে। বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামেই দখলদার বেশি। আবার চট্টগ্রাম বিভাগে দখলদার উচ্ছেদের সংখ্যাও কম। অন্যদিকে অবৈধ দখলদার সবচেয়ে বেশি উচ্ছেদ করা হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে।
চট্টগ্রাম বিভাগে বর্তমানে তালিকাভুক্ত অবৈধ দখলদার ১৮ হাজার ৫৩৭ জন। এর বিপরীতে উচ্ছেদকৃত অবৈধ দখলদারের সংখ্যা ১ হাজার ৮৬৯। ঢাকা বিভাগে তালিকাভুক্ত অবৈধ দখলদার ১০ হাজার ২৬৯ জন। এর বিপরীতে উচ্ছেদকৃত অবৈধ দখলদারের সংখ্যা ২ হাজার ৩৪১। খুলনা বিভাগে তালিকাভুক্ত অবৈধ দখলদার ১২ হাজার ৬৪০ জন। এর বিপরীতে উচ্ছেদকৃত অবৈধ দখলদারের সংখ্যা ৫ হাজার ৩০৩। রাজশাহী বিভাগে তালিকাভুক্ত অবৈধ দখলদার ২ হাজার ৭৩০ জন। এর বিপরীতে উচ্ছেদকৃত অবৈধ দখলদারের সংখ্যা ৩৮।
সিলেট বিভাগে তালিকাভুক্ত অবৈধ দখলদার ২ হাজার ৪৪ জন। এর বিপরীতে উচ্ছেদকৃত অবৈধ দখলদারের সংখ্যা ৬০২। বরিশাল বিভাগে তালিকাভুক্ত অবৈধ দখলদার ৪ হাজার ৬৮৮ জন। এর বিপরীতে উচ্ছেদকৃত অবৈধ দখলদারের সংখ্যা ১ হাজার ৭০। রংপুর বিভাগে তালিকাভুক্ত অবৈধ দখলদার ২ হাজার ৬৯৩ জন। এর বিপরীতে উচ্ছেদকৃত অবৈধ দখলদারের সংখ্যা ৮১৩। ময়মনসিংহ বিভাগে তালিকাভুক্ত অবৈধ দখলদার ৩ হাজার ৯০৫ জন। এর বিপরীতে উচ্ছেদকৃত অবৈধ দখলদারের সংখ্যা ১ হাজার ৮২৮।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন দখলদারের এই তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। তবে বিতর্ক আছে এই তালিকা নিয়েও।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের যেহেতু নিজস্ব জনবল নেই, সেজন্য পুরোপুরিই নির্ভর করতে হয় জেলা প্রশাসকদের ওপর। কিন্তু তাদের দেওয়া তথ্যে অনেক সময় দেখা যায় দখলের চেয়ে উচ্ছেদই বেশি।
আবার চট্টগ্রামসহ সারা দেশে এতো বিপুল সংখ্যক নদী দখলদার থাকলেও বিপরীতে সব বিভাগেই উচ্ছেদের হার খুবই কম। এদের উচ্ছেদই বা কখন করা হবে— সেটা নিয়েও ধারণা নেই নদী রক্ষা কমিশনের। কারণ কমিশন নিজে থেকে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না। তারা কেবল সুপারিশ করতে পারে। আবার সেই সুপারিশ না মানলেও কার্যত তাদের ভূমিকা রাখার কোনো সুযোগ নেই। ফলে নামে ‘নদী রক্ষা কমিশন’ হলেও তালিকা তৈরি ছাড়া নদী রক্ষায় এর কোনো ভূমিকাই নেই।
সিপি