চট্টগ্রামে বিরল সম্মান এপিক হেলথ কেয়ারের, টানা তিনবার আন্তর্জাতিক আইএসও সনদ

চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবার মানচিত্রে এক অনন্য ইতিহাস গড়ল এপিক হেলথ কেয়ার। বন্দরনগরীর একমাত্র ল্যাবরেটরি হিসেবে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মানের ‘আইএসও ১৫১৮৯’ এক্রিডিটেশন সনদ অর্জনের এক বিরল মাইলফলক স্পর্শ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

চট্টগ্রামে বিরল সম্মান এপিক হেলথ কেয়ারের, টানা তিনবার আন্তর্জাতিক আইএসও সনদ 1

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৫-২০২৮ মেয়াদের এই নতুন এক্রিডিটেশন সনদ এপিক হেলথ কেয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সনদ হস্তান্তরের এই বিশেষ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এক্রিডিটেশন বোর্ডের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। তিনি এপিক হেলথ কেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এস এম আবু সুফিয়ানের হাতে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপত্র তুলে দেন। এর আগে ২০১৯ সালে প্রথম এবং ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার এই মর্যাদা অর্জন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এবার তৃতীয় মেয়াদে এই স্বীকৃতি অর্জন করে ঢাকার বাইরে একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের ধারাবাহিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল তারা।

অনুষ্ঠানে এপিক হেলথ কেয়ারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিজিএম (অপারেশন্স) ডা. সোমেন পালিত, এজিএম (মেডিকেল সার্ভিসেস) ডা. হামিদ হোছাইন আজাদ এবং ল্যাব ইনচার্জ মো. আবু নাছিম নিজামী। এ সময় বাংলাদেশ এক্রিডিটেশন বোর্ডের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতায় নতুন দিগন্ত

সনদ গ্রহণকালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এস এম আবু সুফিয়ান দেশের স্বাস্থ্যসেবার বিবর্তন তুলে ধরে বলেন, এক সময় বিদেশে চিকিৎসা কিংবা কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে গেলে বাংলাদেশের মেডিকেল টেস্ট রিপোর্ট খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পেত না। তবে আইএসও এক্রিডিটেশনের ফলে আজ সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মেডিকেল ল্যাবরেটরি পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের মেডিকেল টেস্ট রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা এখন বিশ্বব্যাপী বাড়ছে। এই অর্জনকে আরও বহুদূর নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবার মানচিত্রে বাংলাদেশ আরও দৃঢ়ভাবে অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

আস্থা ও নিরলস পরিশ্রমের ফল

প্রতিষ্ঠানের এই অভাবনীয় সাফল্য সম্পর্কে এপিক হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এস এম লোকমান কবির জানান, টানা তৃতীয়বার আইএসও এক্রিডিটেশন সনদ অর্জন মূলত সাধারণ মানুষ ও রোগীদের আস্থারই প্রতিফলন। এই স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠানটির মান নিয়ন্ত্রণ, রোগীর নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনবলের নিরলস পরিশ্রমের ফল হিসেবে দেখছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামে একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে টানা তিনবার এই আন্তর্জাতিক সনদ পাওয়া একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়, বরং উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের প্রতি প্রতিষ্ঠানের যে দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার, তারই বহিঃপ্রকাশ। আগামীদিনেও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নির্ভুল ও রোগীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে এপিক হেলথ কেয়ার কাজ করে যাবে বলে অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

ksrm