চট্টগ্রাম নগরীতে ৩ লাখের বেশি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দিবে সিটি কর্পোরেশন। মাসব্যাপী এ ক্যাম্পেইন আগামী ২০ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে, চলবে ২০ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) নগরীর লালদীঘি পাড়ের পাবলিক লাইব্রেরি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এসব তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন।
২০ এপ্রিল সকাল ১০টায় সিটি কর্পোরেশন জেনারেল হাসপাতাল মিলনায়তনে এই টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পেইনে ৭টি জোনের ৪১টি ওয়ার্ডে মোট ৩ লাখ ৩০০ শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য ৪৮টি স্থায়ী টিম, ২০৫টি অস্থায়ী টিম, ৪১টি মপ-আপ টিম এবং ১৪টি সন্ধ্যাকালীন টিকাদান সেশন চালু থাকবে। টিকা গ্রহণের জন্য অভিভাবকদের ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে নিবন্ধন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে নিবন্ধন না থাকলেও কোনো শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হবে না। বিশেষ করে বস্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা প্রদান দেওয়া হবে।
এ ক্যাম্পেইন সফল করতে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতকরণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় সভা, মাইকিং ও গণসচেতনতা কার্যক্রম।
সিটি মেয়র ডা. শাহাদত হোসেন বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। পরবর্তীতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) সেখ ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ড. জাহাঙ্গীর আলম, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ডা. হোসনে আরা, ডা. তপন কুমার, ডা. খাদিজা আহমেদ, ডা. আব্দুল মজিদ শিকদার, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর ডা. ইমং প্রো চৌধুরী, ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ফাহমিদা বেগম।
আরএ/ডিজে



