চবির ১ম বর্ষে প্রাথমিক ভর্তিতেই শেষ তিন মাস, তবুও খালি ১৪ শতাংশ আসন

লম্বা সেশনজটের শঙ্কায় শিক্ষার্থীদের হতাশা

0

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও ক্লাস শুরু করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি দীর্ঘ এই সময়ে ভর্তির জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ভর্তিও সম্পন্ন হয়নি। অন্যদিকে তৃতীয় ধাপের প্রাথমিক ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও সব আসন পূর্ণ হয়নি। চারটি ইউনিট ও দুইটি উপ-ইউনিটে ৪ হাজার ৯২৬টি আসনের বিপরীতে এখনও ৬৭২টি আসন খালি রয়েছে। যা মোট আসনের প্রায় ১৪ শতাংশ।

এর মধ্যেই যেসব শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগে প্রাথমিক ভর্তি সম্পন্ন করেছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ ভর্তি শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে।

শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আবেদন থেকে শুরু করে বিষয় পছন্দক্রম নির্বাচনসহ প্রায় সব প্রক্রিয়াতেই পদে পদে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। করোনার কারণে ১ বছর পর ভর্তি পরীক্ষা হওয়া, পরীক্ষা শেষ হওয়ার তিন মাসেও ক্লাস শুরু না হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী সেশনজটে পরার আশংকা করছেন শিক্ষার্থীরা। যদিও ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এই দীর্ঘসূত্রিতার জন্য আইসিটি সেল ও ডিনরা পরস্পরকে দোষারোপ করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চারটি ইউনিট ও দুইটি উপ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা গত বছর ২৭ অক্টোবর শুরু হয়ে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত চলে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ২৩ দিন পর বিষয় পছন্দক্রম নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। যদিও ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৩ দিন পরই বিষয় পছন্দক্রম নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ভর্তি পরীক্ষায় নানা অনিয়ম

এবারের ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের শুরু থেকে প্রাথমিক ভর্তি পর্যন্ত বেশ কয়েকটি অনিয়মের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে এক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা না দিয়েই উত্তীর্ণ হয়। এছাড়া দুই শিক্ষার্থী জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তীর্ণ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পছন্দক্রম নির্বাচনে বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তিতে পরে শিক্ষার্থীরা। যদিও এসব ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন আগ্রহ দেখায়নি।

আসন খালি ১৪ শতাংশ

আইসিটি সেল সূত্রে জানা যায়, ‘এ’ ইউনিটে ১ হাজার ২১২টি আসনের বিপরীতে খালি রয়েছে ২১৮ টি আসন। যা শতকরার হিসেবে ১৮ শতাংশ। ‘বি’ ইউনিটে ১ হাজার ২২১টি আসনের বিপরীতে খালি রয়েছে ২৩৮ টি আসন। যা শতকরার হিসেবে ১৯ শতাংশ। ‘সি’ ইউনিটে ৪৪১টি আসনের বিপরীতে খালি রয়েছে ৩৬ টি আসন। যা শতকরার হিসেবে ৮ শতাংশ। ‘ডি’ ইউনিটে ১ হাজার ১৬০টি আসনের বিপরীতে খালি রয়েছে ১৫৩ টি আসন। যা শতকরার হিসেবে ১৩ শতাংশ।

দুইটি উপ-ইউনিটের মধ্যে ‘বি১’ ইউনিটে ১২৫টি আসনের বিপরীতে খালি ২৫ টি আসন। যা শতকরার হিসেবে ২০ শতাংশ।, তবে ‘ডি১’ উপ ইউনিটে ৩০টি আসনের বিপরীতে কোন আসন খালি নেই।

লম্বা সেশনজটের শঙ্কা

করোনার কারণে একবছর বিলম্বে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তিনমাসেও ক্লাস শুরু না হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী সেশনজটের আশংকা করছেন নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

লোকপ্রশাসন বিভাগে প্রাথমিক ভর্তি সম্পন্ন করা সারওয়ার মাহমুদ বলেন, ‘আমরা একেবারেই হতাশ। আমাদের পরে আরও দুইটা ব্যাচ আছে। ২১ সালের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় আছে। ২২ সালের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা জুনে। এছাড়া ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের অনেকেরই প্রথমবর্ষ শেষ হয় নাই। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার তিন মাসেও আমাদের ক্লাস শুরু হয়নি। আমরা তিনটা ব্যাচ চরম সেশনজটের আশংকায় আছি।’

কলা অনুষদের একটি বিভাগে প্রাথমিক ভর্তি সম্পন্ন করা রহিম উল্লাহ বলেন, ‘ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা চবির অল্প কিছুদিন আগে শেষ হলেও তারা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ক্লাস শুরু করেছে। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় তিন মাসেও শুরু করতে পারেনি। এমনিতে করোনার কারনে এক বছর চলে গেছে। এখন ভর্তিতেই তিন মাস শেষ। আমাদের যে কী হবে!’

পূর্ণাঙ্গ ভর্তি শুরু আজ, ক্লাস শুরু ২২ ফেব্রুয়ারি

এদিকে যেসব শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগে প্রাথমিক ভর্তি সম্পন্ন করেছে তাদের পূর্ণাঙ্গ ভর্তি শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার থেকে। যা চলবে ১৭ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। পরবর্তীতে ২২ ফেব্রুয়ারী ক্লাস শুরু হবে।

যা বলছে কর্তৃপক্ষ

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ‘এ’ ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসিম হাসান বলেন, ভর্তি প্রক্রিয়াগুলো যেভাবে শুরু হয়েছে কার্যক্রম সেভাবেই চলছে। এগুলো মিটিংয়ের মাধ্যমে হয়। কারও একার সিদ্ধান্ত না। এর মধ্যে বিষয় পছন্দক্রম দিতে ১০ দিন বেশি হয়ে গেছে৷ এই ১০ দিনই পিছিয়ে গেছে। আর কিছু না। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ভর্তির কার্যক্রম চলবে। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ক্লাস শুরু হবে।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ডিন বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল যথাসময়ে দিয়েছি। আইসিটি সেল বিষয় পছন্দক্রম দিতে একমাসের মতো সময় নিয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতা কম বলে সবকিছুতে দেরি হচ্ছে।’

তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। ডিনরা যেভাবে শিডিউল ঠিক করে দেন আইসিটি সে অনুযায়ী কাজ করে। আইসিটির এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফলাফল পাঠাতে ডিনরা দেরি করেছেন। কোনো কোনো ইউনিটের ফলাফল কয়েকবারও পাঠিয়েছেন। এর দায়ভার কি আমাদের?’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে বলেন, ‘তৃতীয় অপেক্ষমান তালিকার শিক্ষার্থীদের ভর্তি শেষ হওয়ার পর ক্লাসের তারিখ দেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে বিভিন্ন কোটার সাক্ষাৎকার নেওয়া যায়নি। তাই দেরি হয়েছে।’

আসন খালি থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি। গুচ্ছ একটি বিস্তৃত এলাকা। সেখানে অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় সংযুক্ত। গুচ্ছের জন্য শিক্ষার্থীরা ইতস্তত করছে। যার কারণে তারা বিষয় পছন্দক্রম পূরণ করছে না। শিক্ষার্থীরা বলছে কেউ গুচ্ছে আছে। কেউ এখানে আছে, সেখানে আছে। এজন্য আসন খালি রয়ে গেছে।’

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm