চলাচলের একমাত্র রাস্তায় হঠাৎ বেড়ার দেয়াল তুলে দেওয়ায় প্রায় দুইদিন ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছে একটি পরিবার। সাহায্য চেয়ে জাতীয় জরুরি সহায়তা সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ এলেও তারা কিছু না বলেই চলে যান। সাতকানিয়া পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরের সহায়তা চেয়েও পায়নি পরিবারটি।
এমন ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরপাড়ার মোক্তার বাড়িতে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে ওই পরিবারটি অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। বাইরে চলাচলের একমাত্র রাস্তায় বেড়ার দেয়াল তুলে দেওয়ায় তারা বের হতেও পারছেন না। স্থানীয়রা বলছেন, এমন কাজ অমানবিক।
ভুক্তভোগী হুসাইন মোহাম্মদ ফরহাদ চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, গত ৩০ বছর ধরে বাড়ির সামনে চলাচলের জায়গার ওপর দিয়ে চলাফেরা করছি। সেই জায়গা বন্ধ করে দিতে চায় আমাদের প্রতিবেশী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর বাবুলসহ তার দুই ভাই। দীর্ঘদিনের চলাচলের পথটিকে তারা শুধুমাত্র গায়ের জোরে গতকাল বেড়া দিয়ে দেয়। তারা জানায়, জায়গাটির ওপরে বাড়ি করবে। আমাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রধান রাস্তার ওপরে বেড়া দেওয়ায় আমরা বিপদে পড়েছি। আর বিষয়টি অমানবিক।’
মোহাম্মদ ফরহাদ বলেন, ‘গত সোমবার বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আমরা আইনি সহায়তা চেয়ে ৯৯৯ এ ফোন করি। এখান থেকে ফোন পেয়ে সাতকানিয়া থানার এসআই জীবন চন্দ্র মজুমদার ঘটনাস্থলে আসেন। এসে তিনি আমাদের কথা না শুনে চলে যান। যাওয়ার সময় বলে যান, তার অন্য কাজ আছে। এখানে স্থানীয় কাউন্সিলের সাথে যেন আমরা যোগাযোগ করি।’
ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘুরে আসা সাতকানিয়া থানার এসআই জীবন চন্দ্র মজুমদার চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি ৯৯৯ এর ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে চলাচলের রাস্তাটি নিয়ে ঝগড়া বিবাদ লেগেই ছিল। চলাচলের রাস্তা হলেও জায়গাটির পারিবারিক ভিটা অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর বাবুলের। আমার কাছে ৯৯৯ আরেকটি কল থাকায় আমি ভুক্তভোগী ফরহাদদেরকে স্থানীয় কাউন্সিলরের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে চলে আসি।’
এদিকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘জায়গাটি আমাদের পারিবারিক ভিটা। আমরা প্রতিবেশী হিসেবে ফরহাদদেরকে ব্যবহার করতে দিয়েছিলাম। আমরা তিন ভাই বিএস খতিয়ান ও অংশনামামূলে জায়গাটির মালিক। আমরা এখন আমাদের জায়গায় বাড়ি করব। তারা কোন দিক দিয়ে বের হবে সেটা তাদের ব্যাপার।’
আইএমই