চেয়ারে বসিয়ে করোনার টিকা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও চট্টগ্রামের পটিয়ায় ৩৫০ জনকে টিকা দেওয়া হলো দাঁড়িয়ে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাই বলছেন, এভাবে টিকা দেওয়াটা খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়।
শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠিক এভাবেই করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হল চট্টগ্রামের পটিয়ার আশিয়া ইউনিয়নের আশিয়া উচ্চ বিদ্যালয় টিকা কেন্দ্রে। সেখানে ৩৫০ জন টিকাপ্রার্থীকে চেয়ারে বসার বদলে দাঁড় করিয়েই টিকা দিলেন পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী শামিম আজাদ।
স্বাস্থ্য সহকারী শামিম আজাদ বলেন, ‘আমি হাই প্রেসারের রোগী। এছাড়াও আমার কোমরে ব্যাথার কারণে আমি দাঁড়িয়ে টিকা দিয়েছি।’
পরে তিনি বলেন, ‘আমি এ কাজটি করে অন্যায় করেছি। এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য সহকারী শামিম আজাদ নিজের শারীরিক সমস্যাকে অজুহাত হিসেবে দেখালেও সেখানে সফুরা বেগম নামে আরও একজন স্বাস্থ্য সহকারী ছিলেন।
সফুরাকে দিয়ে কেন সঠিকভাবে টিকা দেওয়া হল না— এমন প্রশ্নের জবাবে শামিম আজাদ বলেন, ‘সফুরা শুধু কাগজপত্রের কাজগুলো করেছেন। আমি একাই ৩০০ জনেরও বেশি লোককে টিকা দিয়েছি।’
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সব্যচাসী নাথ এ ব্যাপারে বলেন, ‘সে এভাবে দাঁড়িয়ে টিকা প্রয়োগ করতে পারে না। টিকা দিতে হবে বসিয়ে। এটি অত্যন্ত সেনসেটিভ বিষয়। তার বিরুদ্ধে অফিসিয়ালি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিয়মবর্হিভুতভাবে করোনার টিকা সরানোর দায়ে টেকনোলজিস্ট রবিউল হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। গত ৩০ ও ৩১ জুলাই করোনার টিকা পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিয়ে উপজেলার শোভনদন্ডীতে গণহারে দেওয়া হয় সরকারি অনুমতি ছাড়াই।
অবৈধভাবে টিকা দেওয়ার এই ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউল হোসেনের সহযোগী পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধেও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সিপি