পটিয়া মাদ্রাসায় হামলা করতে এসে অস্ত্রসহ আটক ৫ জন, নেপথ্যে পুরনো বিরোধ!
১২ জনকে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা
চট্টগ্রামের পটিয়ার ‘আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া’ নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে সংঘবদ্ধ একটি সন্ত্রাসী দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে অভ্যন্তরে প্রবেশ করে মুহতামিমকে হত্যাচেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনায় আটক ৫ জনকে আদালত পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বিচার আইনে করা মামলায় আসামি করা হয়েছে ১২ জনকে।

ঘটনার সময় ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রতিরোধে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হলেও এই হামলার পেছনে পুরনো বিরোধ, বহিষ্কৃতদের সংশ্লিষ্টতা এবং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পুনরুত্থান নিয়ে এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামিয়ার অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। এ সময় জামিয়ায় সাধারণ ছুটি চলছিল, ফলে অভ্যন্তরে লোকসংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। ঠিক এই সময়টাকেই হামলাকারীরা বেছে নেয়।
এ ঘটনায় ছাত্রদের তৎপরতায় পাঁচজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন—আজগর হোসেন ওরফে কারাতে মাস্টার আজগর (৫০), খরনার মো. আশরাফুর জামান ওরফে আশরাফ (২৩), মো. সাঈদ বিন আবুল কালাম ওরফে সাঈদ (২০), মো. নুরুল হাসান (২৬) ও শোয়াইব জিয়া (৩৫)। এসময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করে পুলিশ। তবে আরও বেশ কয়েকজন আসামীরা পালিয়ে যায়। আটকদের মধ্যে আজগরকে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে দিলে আহত অবস্থায় তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন।
মাদ মাদ্রাসার ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে আরও অজ্ঞাত ২০/৩০ জনের বিরুদ্ধে একটি দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেছেন। শুক্রবার বিকেলে আটকদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দা ও ছুরি হকিস্টিক ও লাঠি, মাস্ক ও মারবেল হামলার জন্য প্রস্তুত বিভিন্ন সরঞ্জাম। এসব অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় এটি নিছক অনুপ্রবেশ নয়, বরং বড় ধরনের সহিংস হামলার প্রস্তুতি ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জামিয়া কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক বছরে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে হামলার হুমকি, অভ্যন্তরীণ বিরোধ, বহিষ্কৃতদের উস্কানি, সম্পত্তি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে একাধিকবার উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল।
আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে কিছু নাম উঠে এসেছে বলে জামিয়া কর্তৃপক্ষেে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পূর্বেও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। বহিষ্কৃত এক শিক্ষকের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পর্দার আড়ালে রয়েছে আরও শক্তিশালী মদদদাতা।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ নিশ্চিত করেনি।
সংবাদ সম্মেলনে জামিয়া কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের কাছে তিনটি জরুরি দাবি জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন পটিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আখতার হোসাইন আনোয়ারী। বক্তব্য রাখেন মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা আবু তাহের কাসেমী নদভী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা হাফেজ মাসুম, মাওলানা আহমদ বাকের আজিজী, মাওলানা নাসিরুদ্দিন, মাওলানা ইউনুস, মাওলানা সলিমুদ্দিন মাহদী, মাওলানা আনিসুর রহমান, মাওলানা আকরাম সাদী, পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম সওদাগর, আবুল কাসেম, এড. হাবিবুল্লাহ, বজলুর রহমান, মাওলানা আবদুর রহিম, আবদুল আলীম, আজিজুল হক বিন আবদুল্লাহ, কে এইচ এম তারেক।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, শুক্রবার ভোররাতে পটিয়া মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে থানায় রাখা হয়েছে।
ডিজে



