শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের বড় ভাই সেগুন আবার পুলিশের জালে, দুই খুনে নাম

চট্টগ্রামে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের বড় ভাই ও গণপূর্ত ঠিকাদার সমিতির সহসভাপতি ওসমান আলী ওরফে সেগুনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলশী থানার ইমপেরিয়াল হাসপাতাল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর তাকে নগরের মনসুরাবাদ ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ভাই ওসমান আলী সেগুনকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে তৎপর থাকতে দেখা যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ভাই ওসমান আলী সেগুনকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে তৎপর থাকতে দেখা যায়।

খুলশী থানা সূত্র জানায়, দুপুরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওসমান আলী সেগুনকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপি খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, খুলশী থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে। আপাতত তাকে থানার বাইরে একটি স্থানে রাখা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

গত বছরের ২৬ মে বড় সাজ্জাদের বড় ভাই ওসমান আলী ওরফে সেগুন এবং তার ভাগ্নেকে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব-৭ ও পুলিশ। পরে তারা জামিনে বেরিয়ে আসেন।
গত বছরের ২৬ মে বড় সাজ্জাদের বড় ভাই ওসমান আলী ওরফে সেগুন এবং তার ভাগ্নেকে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব-৭ ও পুলিশ। পরে তারা জামিনে বেরিয়ে আসেন।

আগের গ্রেপ্তার ও হত্যা মামলা

পুলিশ জানায়, এর আগেও আলোচিত ‘সন্ত্রাসী’ আলী আকবর ওরফে ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ২৬ মে দিবাগত রাতে র‍্যাব-৭ ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের যৌথ অভিযানে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন একটি ক্লাব থেকে ওসমান আলী সেগুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তার হওয়া ওসমান আলী সেগুন নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার তালিতাতলী এলাকার মৃত আব্দুল গণি কন্ট্রাক্টরের ছেলে।

নিহত আকবর একই থানার মঞ্জু মিয়ার ছেলে। তিনি এলাকায় ‘ঢাকাইয়া আকবর’ নামে পরিচিত ছিলেন এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সশস্ত্র হামলায় গুরুতর আহত হন আকবর। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের প্রথম স্ত্রী রুপালী বেগম পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। ওই মামলার একজন আসামি ওসমান আলী সেগুন।

বাবলা হত্যা নিয়েও অনুসন্ধান

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ৫ নভেম্বর নগরের চালিতাতলী হাজিরপোল এলাকায় এক রাজনৈতিক গণসংযোগ কর্মসূচির সময় গুলিতে নিহত হন সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা নামে আরেক সন্ত্রাসী। ওই ঘটনার সঙ্গেও ওসমান আলী সেগুনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। সেই বিষয়টি সামনে রেখেও তাকে আটক করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে সরোয়ার হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে—এমন তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেজে/সিপি

ksrm