চট্টগ্রামের সাংবাদিক প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওসমানুল হকের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী সোমবার (৩ জানুয়ারি)। দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে নগরীর সেন্টার পয়েন্ট হাসপাতালে সাত দিন কোমায় থাকার পর গত ২০০৫ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
কর্মজীবনে নিভৃতচারী এই সাংবাদিক দৈনিক ইত্তেফাকে সহ-সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিতা জীবন শুরু করেন। ছাত্রজীবন থেকে তিনি ছিলেন রাজনীতি সচেতন। ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নানা ভূমিকা রাখেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ষাটের দশকে তৎকালীন চট্টগ্রাম (চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা) দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
পরে যুদ্ধ শুরু হলে ভারতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং দেশে ফিরে বৃহত্তর সাতকানিয়ার (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক, সাতকানিয়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং সাতকানিয়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও ছিলেন তিনি।
দৈনিক আজাদীতে কর্মরত অবস্থায় তিনি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাথে যুক্ত হয়ে অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে তার বড় ছেলে মিরকান মিশুক বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোরে সিনিয়র ভিএএস স্পেশালিস্ট এবং ছোট ছেলে সাইমন চুমুক দৈনিক পূর্বদেশের মফস্বল সম্পাদক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
সোমবার (৩ জানুয়ারি) সাতকানিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। প্রচারবিমুখ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক ওসমানুল হকের মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি দোয়া কামনা করা হয়েছে।