১২ কোটি টাকায় বদলে যাবে চট্টগ্রামের জাতিসংঘ উদ্যানের চেহারা
৪ কোটি টাকার দুই সুইমিংপুল ও জিমনেশিয়াম তৈরি হবে নতুন করে
চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ‘জাতিসংঘ সবুজ উদ্যান’ আধুনিক রূপ দিতে এবার ১২ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিচ্ছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী দুই বছরে এই উদ্যান নতুন রূপ পাবে।
নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় মোট ৬৯ দশমিক ৩৫৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে এক বিঘা আকারের ১৩৬টি আবসিক প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২ দশমিক ৩০ একর জমি রাখা হয় সবুজ উদ্যান বা পার্কের জন্য— যা পরবর্তীতে জাতিসংঘ পার্ক হিসেবে পরিচিতি পায়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম জাতিসংঘ পার্কের এক একর জায়গার ওপর দুটি সুইমিংপুল ও একটি জিমনেশিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০১৫ সালের জুনে এগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয়। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয় ৪ কোটি টাকা। দুটি সুইমিংপুলের প্রতিটির দৈর্ঘ্য ১২০ ফুট ও প্রস্থে ৫০ ফুট। অন্যদিকে সাত হাজার বর্গফুট জায়গার ওপর জিমনেশিয়াম ভবনটি গড়ে তোলা হলেও সেটি কখনোই চালু করা হয়নি।
সুইমিংপুল ও জিমনেশিয়াম নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সময় সিটি কপোরেশনের মেয়র পদে পরিবর্তন আসে। আ জ ম নাছির উদ্দীন সিটি মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৬ সালে জাতিসংঘ পার্ককে এলিট পার্ক লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ২৫ বছরের জন্য ইজারা দেয়ার উদ্যোগ নেন। প্রতিষ্ঠানটি সেখানে কমিউনিটি সেন্টার ও গেস্ট হাউজসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু তত্কালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন ও পাঁচলাইশ আবাসিক সমিতির কাছ থেকে বাধা পাওয়া পর ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এরপর থেকে জাতিসংঘ উদ্যান পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
পার্কটি আবাসিক এলাকার মধ্যে একমাত্র খোলা জায়গা— যা বর্তমানে ময়লা-আর্বজনা জমে নর্দমায় পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া একটু বৃষ্টি হলেই সেখানে তিন থেকে চার ফুট পানি জমে থাকে, যা দীর্ঘ সময় জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের জাতিসংঘ পার্কটিকে ব্যবহার উপযোগী ও আধুনিক করার জন্য সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং বর্তমান মন্ত্রী প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভাপতিকে সুপারিশ করেন। এরপর স্থাপত্য অধিদফতর আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন জাতিসংঘ সবুজ উদ্যান স্থাপনের জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে। অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদফতর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করে।
এ অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি ১২ লাখ ১৯ হাজার টাকা। আর এটি অনুমোদিত হলে চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।
জাতিসংঘ পার্কে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে চার কোটি টাকা ব্যয়ে জিমনেসিয়াম ও সুইমিংপুল নির্মাণ করা হলেও গণপূর্ত অধিদফতর সেগুলো ভেঙে নতুন করে নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়, জিমনেসিয়াম ও সুইমিংপুল মানসম্মতভাবে নির্মাণ না করায় এগুলো ভেঙে পুননির্মাণের সংস্থান রাখা হয়েছে। জিমনেসিয়াম ও সুইমিংপুলের বর্তমানের অবস্থা পর্যালোচনা করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং গণপূর্ত অধিদফতর চট্টগ্রামের প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি কমিটি করে এগুলো ভেঙে পুননির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
জাতিসংঘ পার্কের মাঠে বর্তমানে বাউন্ডারি ওয়াল এবং ওয়াকওয়ে রয়েছে। তবে গণপূর্ত অধিদফতরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে মাঠের বর্তমান বাউন্ডারি ওয়াল এবং ওয়ার্কওয়ে পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়নি এবং এগুলো নষ্ট হয়েছে। ফলে এগুলোও সম্পূর্ণ নতুনভাবে নির্মাণ করতে হবে।
এদিকে পাঁচলাইশ এলাকাটি চট্টগ্রাম নগরীর একটি উন্নত আবাসিক এলাকা হওয়ার পরও গণপূর্ত অধিদফতর জাতিসংঘ উদ্যানের ভূমি উন্নয়নের জন্য ৫০ লাখ টাকার ব্যয় প্রস্তাব করেছে। এর পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তারা বলেছে, মাঠের চারপাশের রাস্তার চেয়ে মাঠটি প্রায় ৫ ফুট নিচু এবং বৃষ্টি হলেই উদ্যানে পানি জমে যায় তাই ৫ ফুট উচ্চতা ধরে ভূমি উন্নয়ন ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে।
সিপি