মাত্র দুই সপ্তাহ আগে পায়ের সমস্যা নিয়ে জন্ম নেওয়া এক শিশুকে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেলেন জন্মদাতা বাবা-মা। শিশুটি জন্ম নেয় ক্লাবফুট বা বাঁকানো পায়ের পাতা নিয়ে— যা শিশুদের একটি জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘congenital talipesequinovarus’ (CTEV)। সাধারণত শিশুর পায়ের পাতা গোড়ালি থেকে ভেতরের দিকে বাঁকানো অবস্থাকেই ক্লাবফুট বলা হয়।
শিশুটির বাবা ও মা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে শিশুটিকে রেখে রোববার (১৮ জুলাই) দুপুরে পালিয়ে গেলেও সেখানে কর্তব্যরত নার্সরা সোমবারই (১৯ জুলাই) বিষয়টি বুঝতে পারেন।
রোববারই ওই শিশুটিকে ভর্তি করা হয়েছিল চমেক হাসপাতালের শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে। হাসপাতালে ভর্তির সময় শিশুটির নাম লেখা হয় ঝর্ণা। বাবার নাম লেখা হয় জসিমউদ্দিন। ঠিকানা লেখা হয় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি এলাকায়।
জানা গেছে, শিশুটিকে ওয়ার্ডে ভর্তি করার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাদের খোঁজ মেলেনি। এরপর সোমবার সারাদিনেও শিশুটির বাবা-মায়ের হদিস পাওয়া না যাওয়ায় কর্তব্যরত নার্সরা নিশ্চিত হন শিশুটির জন্মগত সমস্যা থাকায় তারা পালিয়ে গেছেন। বর্তমানে ১৪ দিনের ওই শিশুটিকে চমেক হাসপাতালের শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পরিসংখ্যান মতে, প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ শিশু ক্লাবফুট নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। পনসেটি পদ্ধতির মাধ্যমে ছোট শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া গেলে তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যেতে পারে। এটি অত্যন্ত কার্যকর, সুলভ এবং স্থায়ী ব্যবস্থা। নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুর পায়ের পাতার নরম বাঁকা অংশ ধীরে ধীরে ভাল হয়ে যায়। তবে বড় শিশু বা বয়স্কদের ক্লাবফুটের চিকিৎসার জন্য অর্থোপেডিক অস্ত্রোপচারই একমাত্র ভরসা। কিন্তু এটি অনেক ব্যয়বহুল— যা সাধারণ দরিদ্র মানুষের পক্ষে মেটানো সম্ভব হয় না।
চিকিৎসা না করালে এটি আজীবন বিকলাঙ্গতা বা পঙ্গুত্ব বয়ে নিয়ে আসে। ফলে এসব শিশু পরবর্তীতে পরিবারের বোঝা হয়ে যায়, যা দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ। পরবর্তী জীবনে এরা অন্য কোন পেশায় যোগ দিতে না পেরে ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিতে বাধ্য হয়। এ কারণে বাংলাদেশের ভিক্ষুকদের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্লাবফুটধারী।