১ হাজার টাকা কাবিনে বিয়ে হল বিত্তশালী পরিবারের শিক্ষক দম্পতির
কম টাকার কাবিন দেখে বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে চাননি কাজি
কাবিন নিয়ে দর কষাকষি, বিয়ে ভেঙে যাওয়া, অনেক টাকা কাবিন দিতে না পারায় বিয়ে করতে না পারা— চারপাশে এরকম ঘটনা কম নয়। কাবিন নিয়ে অংকের প্রতিযোগিতা যখন অনেকটা রীতি হয়ে উঠেছে, তখন আশার বাণী শোনালেন চট্টগ্রামের এক দম্পতি। বর-কনে দু পক্ষের পরিবারই বিত্তশালী হলেও মাত্র এক হাজার টাকা কাবিনে বিয়ে হল তাদের। তাও ধুমধাম করেই হলো বিয়ের অনুষ্ঠান। অনেকে আবার একে ‘সুন্নতি বিয়ে’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তবে নবদম্পতি বলছেন, তারা এভাবে বিয়ে করে অবিবাহিতদের মাঝে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন যেন আগামীতে সকলেই এটাকে অনুসরণ বা অনুকরণ করেন। যাতে সমাজ থেকে কাবিনের জবরদস্তির প্রথাটি সহজ হয়ে যায়।
নতুন বছরের প্রথম দিন শনিবার (১ জানুয়ারি) রাতে এক হাজার টাকা কাবিনে শিক্ষক মাসকি চৌধুরী সূর্য ও তানিয়া খাদেম দম্পতির বিয়ে হল চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদের হোটেল অ্যাম্বেশিয়াতে।
সাতকানিয়া উপজেলার মৈশামুড়ার বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইউনুস চৌধুরী ও হাসিনা চৌধুরীর ছেলে মাসকি চৌধুরী সূর্যের সঙ্গে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার খরমপুর থানার আবুল খায়ের খাদেম ও হেলেনা আক্তারের মেয়ে তানিয়া খাদেমের বিয়ে সম্পন্ন হল এভাবেই। নবদম্পতি দুজনই চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ‘স্কুল অফ সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি’ বিভাগের শিক্ষক। মাসকি চৌধুরী লেখাপড়া করেছেন লন্ডনে, আর তানিয়া খাদেমের শিক্ষাজীবন কেটেছে চুয়েটে।
জানা গেছে, নবদম্পতি দুজনের সিদ্ধান্তেই নির্ধারণ করা হয় কাবিনের বিষয়টি। যদিও পারিবারিক মতামতের ভিত্তিতে দুজনের বিয়ে হয়। দুজন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় অবশ্য পূর্বপরিচিত ছিলেন।
বর মাসকি চৌধুরী সূর্যের বাবা ইউনুস চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি ভেবেছি সমাজে প্রচলিত নিয়ম অনুসারে তাদের কাবিন হবে। কিন্তু আমাকে ছেলেই জানাল তারা পরস্পর রাজি হয়েছে এবং একহাজার টাকা কাবিনে বিয়ে করবে। এ বিষয়ে আমিও সম্মতি দিলাম। কারণ বর্তমান সময়ে এ কাবিন নিয়ে সমাজে বেশ অরাজকতা চলছে। তাই এই একহাজার টাকা আমি স্বাক্ষর দিয়ে বন্ডিং করে দিয়েছি। নগদে বিয়ের অনুষ্ঠানেই কনের হাতে তুলে দিয়েছি।’
ব্যবসায়ী ইউনুস চৌধুরী বলেন, ‘এতো কম টাকায় কাবিন হওয়ায় একজন কাজি বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে চাননি। পরে আরেকজন কাজি ডেকে রেজিস্ট্রি করিয়েছি। আমি চাই আমাদের সমাজের কম টাকায় বিয়ের কাবিনের প্রথা চালু হোক।’
অন্যদিকে কনের বাবা মোহাম্মদ আবুল খায়ের খাদেম বলেন, ‘কাবিনটা বড় বিষয় নয়। সংসারে সুখ থাকা হচ্ছে বড়। আমার মেয়ে যেহেতু রাজি হয়েছে, সেখানে আমিও রাজি হয়েছি এই টাকায় কাবিনে। কারণ তারা দুজনই শিক্ষিত। আমার মেয়ের এ সিদ্ধান্তে আমিও খুশি হয়েছি।’
বর মাসকি চৌধুরী সূর্য বলেন, ‘মাত্র এক হাজার টাকা কাবিন দিয়ে আমরা সমাজকে এটাই ম্যাসেজ দিতে চাই যে, এক হাজার টাকায়ও বিয়ে হয়। কাবিনের জন্য ধরাধরি, দরকষাকষি এমন আচরণ দেখি বিয়ের অনুষ্ঠানে। আমরা সেই প্রথা থেকে বের হয়ে নতুন কিছু করতে চেয়েছি।’
কনে তানিয়া খাদেম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আসলে কাবিনটা ধরা হয় কনে পক্ষ থেকেই। আমার কাছ থেকেই প্রস্তাব দিয়েছি এক হাজার টাকা কাবিন ধরার জন্য। আমরা বরও বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। আমি ভাবলাম, আমি তো স্বাবলম্বী নারী। আমার বিয়েটা টাকার ওপর ভিত্তি করে হবে কেন?’
এএস/সিপি
মেয়ের মন্তব্য শুনে বুঝতে পারলাম কাবিনের ফিলোসোফি উনি জানেন না।কাবিন দেওয়া হয় একটা সম্মান এর টোকেন স্বরুপ,মেয়ে স্বাবলম্বী নাকি পরনির্ভরশীল সেটার জন্য নয়।আচ্ছা এক হাজার টাকায় কাবিন নামায় বিয়ে করালেন,কিন্তু লাখ লাখ টাকার হোটেল বুকিং আর খাবার আয়োজন করা হল সেটা কি অপচয় হলোনা?
বিয়েকে সহজ করার জন্য তারা যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অবশ্য প্রশাংসার দাবিদার।
মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুস্মরণ হয়েছে কিনা জানতে হবে।
সুন্নতি বিয়ে বা মোহরে ফাতেমী বিয়ের নুন্যতম একটা কাবিনের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় স্বর্ণ বা চাঁন্দির মূল্যের উপর।
শুধু কাবিন কম দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপনেই শেষ নয়