চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছরেও ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) নির্মাণ না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। একই সাথে শহরে একটি টিএসসি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
বৃ্হস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) ৫৬ তম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আলোচনা সভায় মন্ত্রী এই আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নিয়েছি ৩৩-৩৪ বছর আগে। তখনও আমরা টিএসসি নির্মাণের দাবি দিয়েছিলাম সেটি এখনও প্রতিষ্ঠা হয়নি। উপাচার্য একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য।
মন্ত্রী বলেন, আমি একনেকের পার্মানেন্ট মেম্বার। একনেকে যখন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য হাজার কোটি টকার প্রকল্প পাস হয় তখন আমি উন্মুখ হয়ে বসে থাকি। কামনা করি, কখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পটি যাবে।
আমি আশা করবো, প্রকল্পে শহরে একটি ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের বিষয় যদি থাকে তাহলে ভালো, না হলে যদি এখনও সুযোগ থাকে সেটি যেন প্রকল্পে সন্নিবিষ্ট করা হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পাঠদান বা সার্টিফিকেটের জন্য নয়। এখানে মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তমতের চর্চা হবে। এগুলাে ছাড়া গণতন্ত্র সুসংহত হয় না। যেখানে মুক্তমতকে দমন করা হয়, সেখানে সমাজ বধির।
‘বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান চর্চার, আমাদের আবহমান সংস্কৃতির চর্চার এবং একই সঙ্গে মুক্তমতের চর্চার একটি কেন্দ্র হওয়া প্রয়োজন। সেটি যদি না হয়, ঢাকার শহরের নিচের তলায় গার্মেন্টস, মধ্যে কয়েকতলায় মার্কেট তার উপরে যে বিশ্ববিদ্যালয় হয় সেটির সাথে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পার্থক্য থাকবে না।’
হাছান মাহমুদ বলেন, অনেকে বলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে নেই। আসলে আমরা উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মত পাঠদান, জ্ঞান বিতরণ, সৃজন ও গবেষণায় পিছিয়ে নেই। বরং আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং যারা করে তাদের সাথে যোগাযোগ না হওয়ার কারণে আমরা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতারে আসতে পারিনি।
এর আগে সকাল সাড়ে দশটায় ৫৬ তম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে এক আনন্দ র্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায় কেক কেটা হয়৷ এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যার ভাবনা’- শীর্ষক প্রবন্ধ উত্থাপন করেন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মহিবুল আজীজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সভাপতিত্বে ও প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন সহ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মনিরুল হাসান, চবির সাবেক উপাচার্য ড. বদিউল আলম, অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজিম আরিফ, চাকসুর সাবেক ভিপি মাজহারুল হক শাহ চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন, চবির এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি মাহাবুব আলম।
এমআইটি/কেএস