আড়াই লাখে মেধাতালিকায়, চকরিয়ার ছেলে শাবিতে ভর্তি হতে গিয়ে ধরা

0

ভর্তি পরীক্ষা না দিয়েই চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ভর্তি হতে গেলেন ধরা খেলেন চকরিয়ার বাসিন্দা এক শিক্ষার্থী। দুই লাখ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে জালিয়াতি করে তার বদলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল অন্য একজন।

মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ভর্তি কার্যক্রম চলাকালে তাকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় ওই শিক্ষার্থীকে।

আটক হওয়া শিক্ষার্থীর নাম ইকবাল হোসেন সাঈদ। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মানবিক শাখায় শাবিতে ভর্তি হতে গিয়েছিলেন তিনি। তার বাবা প্রবাসী রফিকুল ইসলাম। ওই শিক্ষার্থীর বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়ার সবুজবাগ গ্রামে।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল ৩৫১৭৬৩ এবং মানবিক বিভাগে মেধাক্রম ৭৫৮তম। তিনি চট্টগ্রাম ভেটেনারি অ্যান্ড অ্যানিমাল সায়েন্স ইউনিভার্সিটির ইউসুফ চৌধুরী ভবনের দোতলায় বন ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের এক নম্বর রুমে পরীক্ষা দিয়েছিলেন আরেকজনকে প্রক্সি সাজিয়ে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে তৃতীয় ধাপে ২০২০-২১ সেশনের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে গত বছরের ২৪ অক্টোবর মানবিক শাখার ২০২০-২১ সেশনের স্নাতক প্রথম বর্ষের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

শাবিপ্রবির ২০২০-২১ সেশনের ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুল্লাহ হুসাইনী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র যাচাইয়ে প্রথমে তার স্বাক্ষর দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। পরে তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর জানতে চাওয়া হয় এবং লিখতে বলা হয়। সেখানে তার হাতের লেখা এবং উত্তরপত্রের লেখা এক ছিল না। তার ছবির সঙ্গে আমাদের কাছে থাকা অ্যাডমিট কার্ডের ছবিতেও ছিল অমিল।’

অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুল্লাহ হুসাইনী বলেন, ‘তার পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স ইউনিভার্সিটিতে। কিন্তু কোথায় পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল জিজ্ঞাসা করা হলে সে ঠিকভাবে বলতে পারছিল না। এভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর জালিয়াতির কথা স্বীকার করে এবং বলে সে ভর্তি পরীক্ষা দেয়নি। এরপর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বডির কাছে তাকে হস্তান্তর করি।’

শাবিপ্রবির সহকারী প্রক্টর আবু হেনা পহিল বলেন, ‘জালিয়াতি করে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন সাঈদ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে জালিয়াতি করে। তার পরিচিত ও বন্ধু আতিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তি করে এবং তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সে ওই টাকা দেয়। আতিকুর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম বিভাগে ভর্তির জন্য সাক্ষাৎকার দিয়েছে বলে জানিয়েছে আটক হওয়া শিক্ষার্থী।’

তিনি বলেন, ‘আতিকুরের বড় ভাই শহীদুল ইসলামও এই জালিয়াতচক্রের সঙ্গে জড়িত। শহীদুল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী বলে জানান আটক ওই শিক্ষার্থী। ইকবাল হোসেনের ছবিতে ফটোশপের মাধ্যমে এডিট করে তার বদলে পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়েছিল রাশেদ নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু আটক হওয়া শিক্ষার্থী রাশেদ নামের ওই ব্যক্তিকে চেনে না বলে জানায়।’

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm