চট্টগ্রাম সিটিতে ঘরে বসে যেভাবে দেবেন হোল্ডিং ট্যাক্স, যেভাবে নেবেন ট্রেড লাইসেন্স

2

চট্টগ্রাম নগরীতে এখন থেকে ঘরে বসেই গৃহকর ও ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ করা যাবে অনলাইনে— এমন আশার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার চার বছর পরে মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) এই দুটি সেবা সংক্রান্ত অনলাইন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের ম্যানুয়েল পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে অনলাইনের আওতায় আসায় গৃহকর ও ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা নাগরিকরা ঘরে বসেই পাবেন। গ্রাহকরা সহজেই গৃহকর ও ট্রেড লাইসেন্স ফি জমা দিতে পারবেন। নতুন ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ এবং নবায়ন করতে পারবেন।

জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরে হোল্ডিং আছে দুই লাখ ৯৮১টি। এর মধ্যে এক হাজার ৫১৬টি সরকারি এবং এক লাখ ৯৯ হাজার ৪৬৫ টি হোল্ডিং বেসরকারি। একই সময় পর্যন্ত নতুন ও নবায়ন মিলিয়ে ট্রেড লাইসেন্স সংখ্যা ৬৭ হাজার ১২৯টি।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘এখন থেকে যে কেউ বাড়িতে বসে গৃহকর পরিশোধ করতে পারবেন। করদাতা তার কর সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যও জানতে পারবেন ঘরে বসেই। অনলাইন ভিত্তিক হওয়ায় হোল্ডিং ট্যাঙ নিয়ে কর আদায়কারীদের বিরুদ্ধে যেসব অনিয়মের অভিযোগ থাকে সেগুলোও কমে আসবে।’

অনলাইনে সেবা নেওয়া যাবে যেভাবে

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ওয়েবসাইটে ঢুকে ই-রেভিনিউ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর ই-মেইল ও মােবাইল নম্বর দিয়ে ই-রেভিনিউ সিস্টেমে একটি ইউজার অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। একটি ইউজার অ্যাকাউন্ট দিয়ে একাধিক হােল্ডিং এবং ট্রেড লাইসেন্সের সকল ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

ইউজার একাউন্ট খোলার আগে পোর্টালে ঢুকে প্রথমে ইমেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বর দিতে হবে। এরপর ইমেইল বা ফোনে একটি ওটিপি বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড পৌঁছে যাবে। পরবর্তী ধাপে পুরো নামসহ কয়েকটি তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি ওই ওটিপি বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড দিলেই নিবন্ধন শেষ হবে।

এরপর ‘হোল্ডিং ট্যাক্স’ অংশে যেসব সেবা অনলাইনেই পাবেন, তার মধ্যে রয়েছে— ই-হোল্ডিং নাম্বার নিবন্ধীকরণ, নতুন হোল্ডিংয়ের আবেদন, ই হোল্ডিং ড্যাশবোর্ড, ই-নোটিশ, ই হোল্ডিং ডিটেলস, বকেয়া বিবরণী, কুইক পে এবং অনলাইন কর পরিশোধের বিবরণ। এখানে প্রথমে নির্দিষ্ট ঘরে আপনার ই-হোল্ডিং নম্বরটি লিখে ‘পরবর্তী ধাপ’ বাটনে ক্লিক করলে আপনার ই-মেইল আইডিতে একটি ওটিপি বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড পৌঁছে যাবে। ছয় সংখ্যার সেই ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ডটি দিলেই আপনার ই-হোল্ডিং নম্বরটি নিবন্ধিত হয়ে যাবে।

অন্যদিকে ‘ট্রেড লাইসেন্স’ অংশে যেসব সেবা অনলাইনেই পাওয়া যাবে, সেগুলো হচ্ছে— ট্রেড লাইসেন্স নাম্বার নিবন্ধীকরণ, ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন, ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন ফি পরিশোধ, ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন রশিদ, ট্রেড লাইসেন্সের ফি পরিশোধ এবং ট্রেড লাইসেন্স প্রিন্ট। এক্ষেত্রেও প্রথমে নির্দিষ্ট ঘরে আপনার ট্রেড লাইসেন্স নম্বরটি লিখে ‘পরবর্তী ধাপ’ বাটনে ক্লিক করলে আপনার ই-মেইল আইডিতে একটি ওটিপি বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড পৌঁছে যাবে। ছয় সংখ্যার সেই ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ডটি দিলেই আপনার ট্রেড লাইসেন্সটি নিবন্ধিত হয়ে যাবে।

পুরাতন হােল্ডিং বা ট্রেড লাইসেন্সের কার্যক্রম অনলাইনে করার জন্য একজন ব্যবহারকারীকে ইউজার একাউন্ট খােলার আগে বা পরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট রাজস্ব সার্কেল অফিস থেকে ই-হােল্ডিং বা ই-ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত যে হোল্ডিং নম্বর আছে তার পাশাপাশি ই-হোল্ডিং নম্বর হবে আলাদা। অনলাইন পেমেন্টের যতগুলো সুবিধা আছে অর্থাৎ ব্যাংক, বিকাশ বা কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্টের অপশন থাকছে সেখানে।

একবার ই-হােল্ডিং বা ই-ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করার পর পৌরকর পরিশােধ, ট্রেড লাইসেন্স ফি পরিশােধ, নবায়ন বা সংশােধনে জন্য আবেদন, ফি পরিশােধসহ ইউজার তার সকল ধরনের কার্যক্রম নিজেই সম্পাদন করতে পারবেন। এছাড়াও ব্যবহারকারী যে কোনো ধরনের বিল পরিশােধের পর বিলের রশিদ সংরক্ষণ বা প্রিন্ট করতে পারবেন।

এছাড়া, বিদেশি বিনিয়ােগকারীরা ব্যবসায় পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ বিনিয়ােগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর ওয়ান স্টপ সিস্টেম (ওএসএস) সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রয়ােজনীয় সকল ধরনের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। ওই সফটওয়্যারের সাথেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ই-রেভিনিউ সিস্টেম সংযুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ বিডার সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদন করেও একজন বিদেশি বিনিয়ােগকারী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স ‘খুব সহজেই’ পেয়ে যাবেন।

আরএম/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

2 মন্তব্য
  1. খালেদ বলেছেন

    ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরে হোল্ডিং আছে দুই লাখ ৯৮১টি। এর মধ্যে এক হাজার ৫১৬টি সরকারি এবং এক লাখ ৯৯ হাজার ৪৬৫ টি হোল্ডিং বেসরকারি। একই সময় পর্যন্ত নতুন ও নবায়ন মিলিয়ে ট্রেড লাইসেন্স সংখ্যা ৬৭ হাজার ১২৯টি।….. কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক নৈরাজ্য রয়েছে বলে ধারণা করা হয়

  2. খালেদ বলেছেন

    কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক নৈরাজ্য রয়েছে বলে ধারণা করা হয়

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm