কুষ্টিয়ায় মাজারে হামলা: পীর হত্যায় ক্ষোভ, শাস্তি ও নীতিমালার দাবি
মাজার সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ
কুষ্টিয়ার ফিলিপনগরে একটি দরবারে হামলা চালিয়ে পীরকে হত্যা এবং ভক্ত-মুরিদদের ওপর নৃশংস আক্রমণের ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সংঘটিত এই ঘটনায় ‘বাংলাদেশ দরগাহ মাজার জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির দাবি, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং মাজার-দরগাহ সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।
সমন্বয় কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, শাহ সুফি শামীম আল-জাহাঙ্গীরের দরবারে একদল উগ্র ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠী হামলা চালিয়ে পীরকে হত্যা করে এবং তাঁর অগণিত ভক্ত-মুরিদকে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনাকে তারা কেবল একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে নয়, বরং দেশের সংবিধান, মানবাধিকার এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সুফিবাদের ঐতিহ্যের ওপর আঘাত
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলায় ইসলামের বিস্তার হয়েছে সুফি সাধকদের মানবতা, সহনশীলতা ও প্রেমের বাণীর মাধ্যমে। শাহজালাল, শাহপরাণ, লালন সাঁই, হাছন রাজা ও মাইজভাণ্ডারীর মতো সাধকদের ধারায় গড়ে ওঠা মাজার ও দরগাহগুলো দীর্ঘদিন ধরে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের আধ্যাত্মিক আশ্রয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও দরিদ্রদের সহায়তার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। কুষ্টিয়ার এ হামলাকে সেই উদার ও মানবিক দর্শনের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে সংগঠনটি। তাদের ভাষ্য, একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মাজার ভাঙচুর ও পীর-ফকিরদের ওপর হামলা চালিয়ে সমাজে ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক সত্তার জন্য হুমকি।
ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ
সমন্বয় কমিটির দাবি, কুষ্টিয়ার এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং মাজার ও সুফি সাধকদের ওপর চলমান হামলার ধারাবাহিকতার অংশ। তাদের তথ্যমতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেশজুড়ে অন্তত ৯৭টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৩ জন নিহত এবং ৪৬৮ জন আহত হন। এসব ঘটনার মধ্যে ১১টি মামলার কথা উল্লেখ করে তারা জানায়, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবহেলার কারণে সেগুলোর কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই উগ্রবাদীদের উৎসাহিত করছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
চার দফা দাবি
এই প্রেক্ষাপটে সমন্বয় কমিটি সরকারের কাছে চারটি দাবি জানিয়েছে। তারা বলছে, কুষ্টিয়ার হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সুফি সমাজের মতামতের ভিত্তিতে ‘মাজার-দরগাহ সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নীতিমালা’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মাজার, খানকাহ ও দরগাহগুলোর জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্গঠনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি দেশব্যাপী মাজার ও দরগাহগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর নির্দেশনা দিতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জনস্বার্থ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা করছে তারা।



