গরুর হাট বসলো বিলাসী গাড়ির শোরুমে, করোনায় গাড়ির ব্যবসায় লালবাতি
রাহাত্তারপুলে ঘরের উঠানেও বসেছে মিনি গরুর হাট
কিছুদিন আগেও এটি ছিল বিলাসবহুল প্রাইভেট কারের শো-রুম। নামিদামি সব গাড়ি প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিক্রিও হতো এখানে। এখন সেই দোকানে বেড়েছে ক্রেতার চাপ। শত শত ক্রেতা ভিড় জমাচ্ছেন দোকানে। তবে গাড়ি কিনতে নয়, গরু কিনতেই ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতা! কারণ গাড়ির সেই শো-রুমটি এখন গরুর হাট!
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগলেও এমন ঘটনাই ঘটেছে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের বড়পোল এলাকায়। ‘কার ট্রেড সেন্টার’ নামের সেই শো-রুমে গাড়ির বদলে শোভা পাচ্ছে নানান রঙের গরু। ব্যতিক্রমী এই দোকান দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা।
এই গরুর হাটের উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন এক্সেস রোড খারাপ থাকায় ও করোনার কারণে গাড়ি বিক্রি কমে যায়। দোকানদার গাড়ির শো-রুম অন্যত্র সরিয়ে নিলে স্থানটি ফাঁকা হয়ে যায়। আর কোরবানিকে সামনে রেখে সেই দোকানেই চার বন্ধু মিলে বসিয়েছেন ছোট গরুর দোকান।
চিত্রটা শুধু বড়পোলের নয়, করোনার কারণে গরু-ছাগলের হাটগুলোর বসা-না বসা নিয়ে সংশয় দেখা দিলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন ছোট গরুর বাজার বা দোকান দেখা যাচ্ছে পুরো নগরজুড়েই। কেউ নিজ ঘরের উঠোনে ১৫-২০টি গরু নিয়ে কেউবা ফার্নিচারের দোকানেও মালামাল সরিয়ে বসিয়েছেন ছোট পরিসরে গরুর হাট।
এছাড়া প্রতিটি পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়েও রয়েছে একাধিক হাট। কেউ নিজের ফার্মের গরু আবার কেউ প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গরু এনে করছেন গরু বেচাকেনা।
হালিশহর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফুল চৌধুরী পাড়া, আন্ধা ফকিরের মাজার, বি-ব্লক, মইন্না পাড়াতেই রয়েছে এরকম একাধিক ছোট-বড় হাট।
বাকলিয়ার রাহাত্তারপুলের বড় করবস্থান এলাকার তাজউদ্দীন শাহ্ মসজিদের পাশে নিজের ঘরের উঠানে ২০টি গরু নিয়ে বাজার বসিয়েছেন হারুন। নিজের উঠানে এমন গরুর হাট বসানোর কারণ জানতে চাইলে উদ্যোক্তা হারুন বলেন, ‘আমি ঘরেই কয়েকটি গরু লালনপালন করি। সেগুলোর সাথে আরও কয়েকটা কিনে বসিয়ে দিলাম এই মিনি গরুর হাট। সাড়াও পাচ্ছি বেশ। আগে বড় হাটগুলোতে নিয়ে যেতাম। এখন শুনলাম করোনার কারণে হাটগুলো বসবে কি বসবে না তার ঠিক নেই। তাই বড় হাটের জন্য বসে না থেকে নিজের উঠানে হাটের আয়োজন করলাম।’
এমএফও