চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ, ৫০০ নালা পরিষ্কার করবে সিটি কর্পোরেশন

খননকাজ শুরু ১৮ এপ্রিল, তদারকি করবেন ১০ ম্যাজিস্ট্রেট

জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের কাছ থেকে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এ অর্থ পেলে তা দিয়ে অন্তত ৫০০টি নালা পরিষ্কারের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। গত বছর ১৪৮টি নালা পরিষ্কার করা হয়েছিল, ফলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসে। এবারও জলাবদ্ধতা কমাতে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) নগরীর টাইগারপাসের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভায় ডা. শাহাদাত হোসেন এসব তথ্য জানান।

মেয়র জানান, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে খাল-নালা খননে ৪১ ওয়ার্ড জুড়ে কার্যক্রম শুরু করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। জামালখান লিচুবাগান, এনায়েতবাজার ওয়ার্ড এবং আন্দরকিল্লা সেবক কলোনিসহ তিনটি ওয়ার্ডে কার্যক্রম উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তিনি জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ নালাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত পরিষ্কারের ব্যবস্থা নিতে হবে। এ লক্ষ্যে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী ও ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা সুপারভাইজারদের সমন্বয়ে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে পুরো কার্যক্রম তদারকিতে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

পরিবেশ ও সবুজায়ন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বর্ষা মৌসুম গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। প্রতিটি ওয়ার্ডে নেওয়া সবুজায়নের কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও গাছের সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা সবুজায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

তিনি প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, বর্ষাকালে নালা-খালে দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে অস্থায়ী বেষ্টনী স্থাপন করারও নির্দেশ দেন তিনি। প্রতিটি ওয়ার্ডের যে সমস্ত ম্যানহোলে ঢাকনা ও স্ল্যাব নেই এগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের জন্য প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নালা-ড্রেনে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পিলারের কারণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করতেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন মেয়র।

তিনি আরও বলেন, বন্দর থেকে চসিকের প্রাপ্য রাজস্ব আদায়ে কাজ চলছে। এ অর্থ পাওয়া গেলে নগর উন্নয়নে গতি আসবে বলে আশা করছি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, স্পেশাল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা, বারইপাড়া খাল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা, উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, মেয়রের জলাবদ্ধতাবিষয়ক উপদেষ্টা ও মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী।

পিএ/ডিজে

ksrm