চট্টগ্রামে আশংকাজনকভাবে করোনা সংক্রমন বেড়ে যাওয়ায় করোনার জন্য বিশেষায়িত তিনটি হাসপাতলে ৫০০টি শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। হাসপাতালগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের দুটি ইউনিট, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন সোমবার (২২ মার্চ) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘করোনা ভাইরাস সংক্রমণজনিত উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয় ও করণীয় নির্ধারণ’ সভায় এসব তথ্য জানান।
সিভিল সার্জন জানান, ‘করোনা রোগীদের সুচিকিৎসায় আন্দরকিল্লা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল-২, হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৫০টি শয্যা প্রস্তুত রয়েছে। নির্দিষ্ট বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালগুলোতে ৬০/৭০টি আইসিইউ বেড রাখা হয়েছে।’
সিভিল সার্জন আর বলেন, ‘মুমূর্ষু রোগীদের জন্য হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা অত্যন্ত জরুরি। চমেক হাসপাতালে ৮০টি, জেনারেল হাসপাতালে ৩০টি, বিআইটিআইডিতে ১০টি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ১০০টি হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা রয়েছে। আমরা সচেতন হলে আগের মত সফলভাবে করোনা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।’
সভায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার আবারও বেড়েছে। ভ্যাকসিন নেয়ার পরে মানুষ অসচেতন হয়ে পড়েছে।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা মতে করোনার দ্বিতীয় ঝুঁকি মোকাবিলায় মাস্ক পরাসহ শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সমুদ্র সৈকত, পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থানে জেলাপ্রশাসন মোবাইল কোর্ট অভিযান ও মানুষের মাঝে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণপরিবহনে যাত্রীদের মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে নগরীর তিনটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হবে। জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। করোনা সংক্রমণ কমে না আসা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে জরুরি সভায় করোনা পরিস্থিতি অবনতির চিত্র তুলে ধরে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘জেলা ও নগরীর সকল কমিউনিটি সেন্টার হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে সামাজিক-রাজনৈতিক অনুষ্ঠানসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানে একশ জনের বেশি অতিথির সমাগম নিষিদ্ধ করে মালিকদের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান পরিচালনা না করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
জেলা প্রশাসক যোগ করেন, ‘সকল মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব মেনে নামাজ আদায়ের বিষয়টি আগামি শুক্রবার জুমার খুৎবার আগে প্রচার করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভূমিকা রাখবে। করোনার সংক্রমণ রোধে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে এগিয়ে আসলে করোনা পরিস্থিতি পূর্বের ন্যায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।’
সিভিল সার্জন সভায় জানান, চট্টগ্রামে ২২ মার্চ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১১ দশমিক ২১ শতাংশ। এ যাবৎ ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬ শত ৯২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৩৭ হাজার ৭৫১ জন। এদের মধ্যে মহানগরে ২৯ হাজার ৮৮১ জন ও উপজেলা পর্যায়ে ৭ হাজার ৮ শত ৭০ জন। করোনায় মৃত্যু হওয়া ৩৮৩ জনের মধ্যে মহানগরে ২৮১ জন ও উপজেলা পর্যায়ে ১০২ জন।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম জাকারিয়া, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. সুমনী আক্তার, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী, সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম, জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক মো. সাঈদ হাসান, জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম জিয়াউল হায়দার হেনরী, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো. নুরুল হায়দার, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কফিল উদ্দিন, সিটি কর্পোরেশনের জোনাল মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাসান মুরাদ চৌধুরী ও জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্ববধায়ক সুজন বড়ুয়া প্রমুখ।
সিএম/কেএস/এমএহক