চট্টগ্রামে শ্রমিক ফেডারেশনের বৈঠকে বিএনপির হামলা, অফিস ভাংচুর, আহত ৮

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকায় একটি অফিসে জামায়াত সমর্থিত ‘শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন’র একটি বৈঠকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অফিসটি ভাংচুর করা হয় এবং আট কর্মী আহত হন বলে দাবি করে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় ঘটে এই ঘটনা। ভাংচুর করা অফিসটি জামায়াতের বলে স্থানীয়রা জানান। তবে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটিকে সামাজিক অফিস ও লাইব্রেরি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিটি কলেজে ছাত্রদল-ছাত্র শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেগুনবাগান এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় জামায়াতের অফিসটিতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের হোটেল শ্রমিক ইউনিটের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি চলছিল।

বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলটি অফিসের সামনে আসার পর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা অফিসটিতে ঢুকে ফেডারেশনের নেতাকর্মীদের ওপর চওড়া হন এবং অফিসের আসবাবপত্র ভাংচুর করেন।

হামলার ঘটনায় আট কর্মী আহত ও অফিসের টিভি, নথি ও টাকা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেন ফেডারেশনের নেতারা।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এসএম লুৎফুর রহমান জানান, বিনা উস্কানিতে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। শ্রমিকদের একটি শান্তিপূর্ণ সাংগঠনিক সভায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও জানান, শেলফে রাখা বিপুল সংখ্যক বই ও নথিপত্র ছিঁড়ে নষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজনের কাছ থেকে মোবাইল, মানিব্যাগসহ টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হামলায় আহত ৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর খুলশী থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে জানতে খুলশি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, সিটি কলেজের ঘটনায় সেগুনবাগান এলাকায় সামান্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রনে আনা হয়।

ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। কেউ অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি আরিফুর রহমান।

ksrm