চট্টগ্রামে ৫ মন্ত্রী, ঘুরে দেখলেন সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপো

0

‘চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদের সব রকম চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। আমরা তিনজন মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনাস্থলে এসেছি। এখানে যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয়ে সরাসরি তদারকি করছেন। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে এর জন্য সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।’

সোমবার (৬ জুন) বিকাল ৩টায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এসব কথা বলেন।

এর আগে ডা. মো. এনামুর রহমান, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও স্থানীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলম প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই দুর্ঘটনায় আমরা আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সেইসঙ্গে আমাদের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই ডিপো পরিচালনারও নীতিমালা আছে। কোনো গাফেলতি হয়েছে কিনা তা জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে গাফেলতির প্রমাণ পেলে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি মেনে কাজ করব।’

দুর্ঘটনায় হতাহতদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই দুর্ঘটনায় ৪১ জনের মৃতদেহ চিহ্নিত করা হয়েছে। মৃতদেহগুলোর মধ্যে ২৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এরমধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ছিলেন ৯ জন। ২২টি মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন ৮২ জন, পার্কভিউ হাসপাতালে ১০ জন, মা ও শিশু হাসপাতালে ৪ জন এবং জেনারেল হাসপাতালে ২ জন চিকিৎসাধীন আছেন। ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি হাসপাতালে ১৪ জনকে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে ৭ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেও দুই জন আইসিইউতে আছে।’

Yakub Group

তিনি আরও বলেন, ‘হতাহতদের জন্য রোববার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এক কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। সেখান থেকে নিহতদের পরিবারকে ১ লাখ টাকা ও আহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। একইসঙ্গে শ্রম মন্ত্রণালয় নিহতের পরিবারকে ২ লাখ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে দেবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আহতদের চিকিৎসায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আহতদের জন্য সবরকম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। কোনো কিছুর অভাব নেই। জেলা প্রশাসক শুরু থেকেই প্রতিমুহূর্তে আমাদের সব জানিয়েছেন। সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়া মাত্রই তিনি বিতরণ করেছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ প্লাটুন সদস্য এখানে মোতায়েন করা হয়েছে। এতগুলো জনবল হারিয়েছি, তাই আমরা শোকাহত। এখানে রপ্তানিমুখি অনেক পণ্যও নষ্ট হয়েছে।’

চট্টগ্রামের মানুষের মানবিক সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার পর মানবতা দেখা গেছে। ছাত্রসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা এই রকম বাংলাদেশ চাই। যে মানুষগুলো হাসপাতালে আছে তাদের জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এরপর বিকাল ৫টায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সীতাকুণ্ড উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আল মামুন, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম, ভাটিয়ারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দিন রাশেদ।

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm