চুরির মামলা তদন্তের নামে খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। মামলার তদন্ত শেষ করা এবং জব্দ করা মোটরসাইকেল ফিরিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে দুই দফায় ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চাঞ্চল্যকর এই লেনদেন হয়েছে সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের মাধ্যমে। অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম আনোয়ার হোসেন, যিনি সাতকানিয়া থানায় কর্মরত আছেন। মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী মো. জাবেদ হোসেন এই ঘুষের অভিযোগ তুলেছেন।
চুরির ঘটনা ও মামলা
ঘটনার শুরু গত ৬ জানুয়ারি দুপুরে। সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট কাঁচা বাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদের সামনে রাস্তার পাশে একটি খালি জায়গা থেকে মো. জাবেদ হোসেনের মোটরসাইকেলটি চুরি হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তিনি জানতে পারেন, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন আলীখালী এপিবিএন-২৫ নম্বর ক্যাম্পের আওতাধীন তুলাবাগান লেদা বাজার এলাকা থেকে মোটরসাইকেলসহ মো. ফয়সাল নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে টেকনাফ এপিবিএন পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে আটক মো. ফয়সাল স্বীকার করে যে, সে তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনের সহায়তায় কেরানীহাট এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটি চুরি করেছে। এ ঘটনায় গত ৭ জানুয়ারি সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা করেন মো. জাবেদ হোসেন। মামলায় মো. ফয়সালসহ তিনজনকে আসামি করা হয় এবং তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই আনোয়ার হোসেন।
তদন্তের নামে টাকা দাবি
ভুক্তভোগী মো. জাবেদ হোসেনের অভিযোগ, মামলাটি দ্রুত তদন্ত শেষ করা এবং টেকনাফ এপিবিএনের হেফাজতে থাকা মোটরসাইকেলটি আদালতের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এসআই আনোয়ার হোসেন তার কাছে টাকা দাবি করেন। আইনি সহায়তা পাওয়ার আশায় বাধ্য হয়ে তিনি মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এসআই আনোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৫ হাজার টাকা পাঠান। এরপর ওই কর্মকর্তা আরও টাকার জন্য চাপ দিলে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) একই নম্বরে আরও ৫ হাজার টাকা পাঠাতে বাধ্য হন তিনি।
ভুক্তভোগীর ক্ষোভ
মো. জাবেদ হোসেন বলেন, তিনি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আইনের আশ্রয় নিতে চেয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ তদন্ত করবে এবং আদালতের মাধ্যমে তিনি তার মোটরসাইকেল ফেরত পাবেন। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা সরাসরি জানিয়ে দেন যে, টাকা না দিলে কাজের কোনো অগ্রগতি হবে না। পরিস্থিতির শিকার হয়েই তিনি বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই দফায় ঘুষ দেওয়ার পরও মামলার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি এবং মোটরসাইকেলটিও এখনো তার হাতে আসেনি। এই ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
যা বললেন অভিযুক্ত
এ বিষয়ে এসআই আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জব্দ করা গাড়ি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিআরটিএ থেকে মালিকানা যাচাই এবং আদালতের আদেশের প্রয়োজন হয়। এসব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করেই গাড়ি মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি এবং বিষয়টি এড়িয়ে যান।

