চট্টগ্রামের পটিয়ার দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নে চলাচলের রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ছৈয়দসহ ৫ জন আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ মে) রাতে মুহাম্মদ সৈয়দ চেয়ারম্যান বাদি হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫-৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে পটিয়া থানায় এই মামলা করা হয়।
এরআগে বুধবার (২৬ মে) দুপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ছৈয়দ হাতে ও মাথায় জখম অবস্থায় চমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়ে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংঘর্ষে অন্যান্য আহতরা হলেন-চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ছৈয়দের বড় ভাই মুহাম্মদ ইউনুছ (৫৬), ভাতিজা সাঈদ হাসান মানিক (২০), প্রতিপক্ষের আবদুস ছবুর (৩৫), আবুল কালাম (৫০) ও ওয়াহিদুল আলম মিন্টু (৪০)।
এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ছৈয়দ জানান, প্রতিপক্ষ আবদুর ছবুর, আবুল কালাম ও আবদুস সালামের বাড়ির পাশে তার পরিবারের জমি রয়েছে। ওই জমিতে আবদুস ছবুর গং রাতারাতি বালুর বস্তা ভর্তি করে চলাচলের রাস্তা তৈরি করেছিল। বুধবার দুপুরে তিনি এবং তার পরিবারের লোকজন রাস্তার বস্তাগুলো সরানোর চেষ্টা করেন। এ সময় প্রতিপক্ষ আবদুস ছবুর গং ও স্থানীয় মনজরুল আলম, সাদ্দাম, আকবর হোসেন, মিন্টুসহ ৮-১০ জন দা, ছুরি ও লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এতে তার হাতের ৪টি আঙ্গুল কেটে যায় এবং মাথাও গুরুতর জখম হয়। ঘটনার পর স্থানীয়রা এসে তাদের পটিয়া হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রতিপক্ষ আবদুস ছবুর জানান, সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ছৈয়দের কাছ থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর পূর্বে জায়গা খরিদ করে ঘর নির্মাণ করেন তারা। জায়গা খরিদের সময় কথা ছিল চলাচলের রাস্তা দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন চেয়ারম্যানের পরিবার তাদের রাস্তা দেয়নি। তাই তারা বালুর বস্তা দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করতে গেলে মারামারি ঘটনা ঘটে। এতে তাদের তিনজন আহত হয় এবং তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চমেক ভর্তি হন বলে জানান।
এ ব্যাপারে পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার জানান, খানমোহনা এলাকায় একটি রাস্তা নির্মাণ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের ৪-৫ জন আহত হন। ঘটনার পরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বৃহস্পতিবার রাতে মুহাম্মদ সৈয়দ চেয়ারম্যান বাদি হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫-৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানান ওসি।
এসএ