চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার প্রধান নৌঘাট কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে ম্পিডবোটের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে কিছু জানে না ঘাট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ। নৌরুটে ভাড়া বাড়াতে হলে স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলাপের কথা বলা হয় ঘাট ইজারাদার চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকে। কিন্তু তিনি কাউকে পাত্তা না দিয়ে ৫০ টাকা ভাড়া বাড়িয়ে দেন।
এছাড়া এই নৌরুটে স্পিডবোট চালানোর কোনো চুক্তি ইজারাদারের সঙ্গে হয়নি। ইজারাদারের সঙ্গে শুধুমাত্র দৈনিক খাস কালেকশনের চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ১৮ মার্চ থেকে ২৫০ টাকার ভাড়া ৩০০ টাকা করে নিতে শুরু করেছে ঘাটের কর্মীরা। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে সন্দ্বীপের বাসিন্দারা। এ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এ রুটের যাত্রী ভাড়া ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দেন ঘাট ইজারাদার আনোয়ার হোসেন। তখনও ঘাটের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি জানতো না বলে জানায় জেলা পরিষদ। তবে সমালোচনার মুখে সাতদিনের মাথায় বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এ ঘটনার দেড় মাসের মাথায় আবারও ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ওয়ালে ঘোষণা দেন আনোয়ার হোসেন। এরপর গত শুক্রবার থেকে বর্ধিত ভাড়া কার্যকর করা হয়। এবারও বিষয়টি জানেন না বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যান জেলা পরিষদের কর্মকর্তারা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ওমর ফয়সাল নামের এক ব্যক্তি বলেন, ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নেই জেলা পরিষদের হাতে? ইজারদার চাইলেই ইচ্ছা মাফিক ভাড়া বাড়াতে পারেন?
ভাড়া বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে জেলা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা? জানতে চাইলে ঘাট ইজারাদার আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ঘরে আমি পান্তা ভাত খাবো, নাকি গরম ভাত খাবো; সেটা আমার ব্যাপার; জেলা পরিষদকে জিজ্ঞেস করার কী আছে?
এ বিষয়টি জেলা পরিষদের সদস্য দিলশাদ বলেন, ইজারাদারের সঙ্গে দৈনিক ভিত্তিতে খাস কালেকশনের চুক্তি হয়েছে। কিন্তু স্পিডবোট চালানোর কোনো চুক্তি নেই। এজন্য ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত দেইনি।
স্পিডবোট চালানোর চুক্তি বহির্ভূত হলে সেটি এ রুটে চালানো অবৈধ, তাহলে জেলা পরিষদ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তারা দেখবেন। পরবর্তীতে এটা নিয়ে সুস্পষ্ট একটা নীতিমালা তৈরি করা হবে।
ভাড়া বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী সাব্বির ইকবাল বলেন, এবারও ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে আমরা অবগত না। আগেরবার সমস্যা তৈরি হওয়ার পর ইজারাদারকে বলা হয়েছিল, ভাড়া বাড়াতে চাইলে স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বাড়াতে।
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট খীসা বলেন, একটা নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে ঘাট পরিচালনা করে জেলা পরিষদ। ভাড়া নির্ধারণের দায়িত্ব একমাত্র তাদের। এখানে উপজেলা পরিষদের কিছু করার এখতিয়ার নেই। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ভাড়া বাড়াতে বলা জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মনগড়া প্রস্তাব।
সন্দ্বীপের এই নৌরুটে ভাড়া বাড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সন্দ্বীপের সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা। তিনি বলেন, ‘কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটের ভাড়া বৃদ্ধি অযৌক্তিক, অন্যায্য। যেখানে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি, সেখানে ভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানো অন্যায়।’
এদিকে কুমিরা-গুপ্তছড়া ফেরীঘাটে ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে। প্রতিবাদ সমাবেশে অধ্যাপক শাহীন ইব্রাহিমের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সোয়াইব উদ্দিন হায়দার, সাংবাদিক সালেহ নোমান, সমাজকর্মী জিয়াউদ্দিন, খাদেমুল ইসলাম।
সাংবাদিক সালেহ নোমান বলেন, কোনো নিয়মনীতি ছাড়া কুমিরা-গুপ্তছড়া ফেরীঘাট চলছে। এ ঘাটের মালিক জেলা পরিষদ হলেও যাত্রীদের ভাড়া ইচ্ছামাফিক বাড়াচ্ছে ইজারাদাররা। ইজারাদারের স্বেচ্ছাচারিতার কাছে সন্দ্বীপের চার লাখ মানুষ জিম্মি। আমরা চায় খাস কালেকশন হোক আর ইজারা হোক একক। ভাড়া হোক অন্যান্য নৌরুটের মতো। যতদিন দাবি আদায় হবে না, ততদিন আন্দোলন চলবে।
ডিজে