চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন ট্যারিফ শিডিউলে পণ্যবাহী গাড়ির গেট পাস ফি বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন চট্টগ্রামে বন্দরে প্রায় আট হাজার ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল করে। শনিবার থেকে চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বন্দরের কার্যক্রম প্রভাবিত হয়েছিল।
চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছেন, পণ্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে বর্ধিত ফি স্থগিত থাকবে। রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে পরিবহন শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত জানান বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক। তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রমিক ও মালিকদের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করেছি। সরকারি অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও পরিবহন শ্রমিকদের সুবিধার জন্য বর্ধিত ফি স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলে সংশ্লিষ্টরা জানবেন কী সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
বন্দর কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব
শনিবার থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি ও ট্রেইলার বন্ধ থাকায় আমদানি পণ্য ডেলিভারি প্রভাবিত হয়েছিল। বন্দর থেকে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে ট্রেইলার ও পণ্যবাহী গাড়ির চলাচলে বাধা দেন। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্যান্ডলিং ও অপারেশনাল কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল, তবে যানজট ও বন্ধের কারণে কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
পরিস্থিতি এমন ছিল যে, বাইরে প্রায় ছয় হাজার ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান বন্দরের বাইরে অপেক্ষা করছিল। শ্রমিকরা জানান, ‘স্থগিতের বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হলে আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করব।’ বন্দর চেয়ারম্যান দীর্ঘ আলোচনা শেষে স্থগিতের ঘোষণা দেন।
লিখিত চান পরিবহন শ্রমিকরা
বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘আমরা বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে সুপারিশসহ প্রস্তাব পাঠাবো। বোর্ডের সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে সংশ্লিষ্টরা জানতে পারবেন। আপাতত স্থগিত থাকবে। শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন, তারা কাজ শুরু করবেন।
ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান, স্থগিতের বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হলে তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবেন। এতে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার আশা দেখা দিয়েছে।
ফি বাড়ানোর পরই আন্দোলন
গত ১৫ অক্টোবর বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের যানবাহন এবং সি অ্যান্ড এফ কর্মীদের লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি করে। নতুন ট্যারিফ শিডিউল অনুযায়ী পণ্যবাহী গাড়ি ও সি অ্যান্ড এফ কর্মচারীদের গেট পাস ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রাইমমুভার, ট্রেইলার মালিক ও সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন রোববার সকাল ৯টা থেকে চার ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করে।
এদিকে আন্তঃজেলা ট্রাক মালিক সমিতিও একই দাবিতে আন্দোলনে যোগ দেয়। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে ভারী গাড়ির প্রবেশ ফি ৫৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৩০ টাকা করা হলে মালিকরা ট্রেইলার চলাচল বন্ধ রাখেন। এসব ব্যক্তিমালিকানাধীন ট্রেইলার মূলত আন্তঃজেলা রুটে কনটেইনার পরিবহন করে থাকে। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ডিপো বা অফডকের ট্রেইলার সীমিত আকারে চলাচল করছে।



