চট্টগ্রাম বন্দর অচল, ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে শ্রমিকদের কর্মবিরতি

চট্টগ্রাম বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে প্রাইমমুভার ও সি অ্যান্ড এফ শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতির পর থেকে বন্দর থেকে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে ট্রেইলার ও পণ্যবাহী গাড়ির চলাচলে বাধা দিচ্ছেন। যদিও বন্দর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, হ্যান্ডলিং ও অপারেশনাল কার্যক্রম এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের যানবাহন ও ব্যক্তির জন্য প্রবেশ ফি এবং সি অ্যান্ড এফ কর্মীদের লাইসেন্স ফি বাড়িয়ে দেয়। নতুন ট্যারিফ শিডিউল অনুযায়ী পণ্যবাহী গাড়ি ও সি অ্যান্ড এফ কর্মচারীদের গেটপাস ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রাইমমুভার, ট্রেইলার মালিক ও সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে। বেলা একটা পর্যন্ত কর্মসূচি চলে, তবে একই দাবিতে আন্তঃজেলা ট্রাক মালিক সমিতিও আন্দোলনে যোগ দিয়েছে।

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে ভারী গাড়ি প্রবেশ ফি ৫৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৩০ টাকা করায় মালিকরা ট্রেইলার চলাচল বন্ধ রেখেছেন। এসব ব্যক্তিমালিকানাধীন ট্রেইলার মূলত আন্তঃজেলা রুটে কনটেইনার পরিবহন করে থাকে। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ডিপো বা অফডকের ট্রেইলার সীমিত আকারে চলাচল করছে।

অন্যদিকে, সি অ্যান্ড এফ মালিক ও শ্রমিকরাও সকাল ৯টা থেকে চার ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, প্রাইমমুভার মালিকদের ট্রেইলার বন্ধ রাখা ও সি অ্যান্ড এফ এজেন্টদের কর্মবিরতির ফলে বন্দর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বন্দর পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নতুন ট্যারিফ ইস্যুতে সমাধান জরুরি হয়ে পড়েছে।

শনিবার পোর্ট ইউজার্স ফোরামের আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় সংগঠনের সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী সতর্ক করে বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে ট্যারিফ সমস্যা সমাধান না হলে চট্টগ্রাম বন্দর সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দরের সব গেট বন্ধ রয়েছে; কোনো গাড়ি প্রবেশ করছে না। নিত্যদিনের মতো ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের জট নেই, কোনো পণ্য খালাস বা জাহাজীকরণও হয়নি — একেবারেই স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দর কার্যক্রম।

ksrm