আইআইইউসি’র সমাবর্তনে সনদ পেলেন ৭ হাজার ৯৪৯ শিক্ষার্থী

১৩ জন চ্যান্সেলর ও ৫১ জন পেলেন ভাইস চ্যান্সেলর পুরস্কার

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ষষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৭ হাজার ৯৪৯ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রি পেয়েছেন। এসময় ১৩ জন শিক্ষার্থী চ্যান্সেলর পুরস্কার এবং ৫১ জন ভাইস-চ্যান্সেলর পুরস্কার পেয়েছেন।

আইআইইউসি’র সমাবর্তনে সনদ পেলেন ৭ হাজার ৯৪৯ শিক্ষার্থী 1

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে কুমিরার বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসব শিক্ষার্থীদের হাতে ডিগ্রি সনদ তুলে দেন আইআইইউসি’র চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ।

আইআইইউসি’র সমাবর্তনে সনদ পেলেন ৭ হাজার ৯৪৯ শিক্ষার্থী 2

সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সঙ্গীত ও কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে শুরু হয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান। এইদিন সকাল থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে করে সমাবর্তন স্থলে আসতে শুরু করে ডিগ্রি নিতে আসা শিক্ষার্থীরা। সাবেক শিক্ষার্থীদের পদচারণায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মিলনমেলায় পরিণত হয়। বহুল প্রতীক্ষিত এই সমাবর্তন পেয়ে উচ্ছ্বসিত ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা।

এবার সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করা ইকোনোমিক্স এবং ব্যাংকিং ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী হুসনা জান্নাত মনি বলেন, প্রথমত আমরা স্নাতক শেষ করার অল্প সময়ের মধ্যে সমাবর্তন পেয়েছি, তাই অনেক ভালো লাগছে। এতদিন কোনোভাবে অনুভব করতে পারছিলাম না, আমাদের শিক্ষা জীবন শেষ হয়েছে। এটা ভেবে খারাপ লাগছে যে, আমরা আজ থেকে অফিসিয়ালিভাবে প্রাক্তন হয়ে গেছি।

ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী আফসানা শিরিন বলেন, ‘কনভোকেশন পাওয়ার স্বপ্ন আজকে পূরণ হয়ে গেল, আলহামদুলিল্লাহ। সুন্দর সাজানো ক্যাম্পাস, ফ্রেন্ডস, সিনিয়র, জুনিয়র, শ্রদ্ধেয় স্যার ম্যাম সবার সাথে দেখা হয়ে ভীষণ ভালো লেগেছে। আমার জন্যে সবচেয়ে ইমোশনাল মুহুর্ত ছিল, যখন ঘোষণা হলো ‘আপনাদের টার্সেল ডান থেকে বাম পাশে ঘুরাতে পারেন।!’ এই ঘোষণার জন্যেই এত অপেক্ষা, এত সাজসজ্জা ছিল, আলহামদুলিল্লাহ। কক্সবাজার থেকে ১৭২ কি.মি পাড়ি দিয়ে গিয়েছি শুধু এই গ্রাজুয়েটদের গাউন, ক্যাপ আর এই ঘোষণার লোভে।’

মো. নুরুল আনোয়ার নামে অপর এক গ্র্যাজুয়েট বলেন, আমি ২০২২ সালে আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছি। শিক্ষার্থী হিসেবে অনুভূতি আর এখনকার অনুভূতি একদমই আলাদা। দীর্ঘদিন পর বিভাগের শিক্ষক, সহপাঠী, বিভাগের জুনিয়রদের দেখে খুবই আনন্দ হচ্ছে। একবারও মনে হচ্ছে না আমরা এখান থেকে চলে গেছি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, সমাবর্তন একটি একাডেমিক ঐতিহ্য। এটি জাতীয় তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী দেশের ভবিষ্যতের বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে। এমন কী নেতৃত্বের পরবর্তী প্রজন্মের, পেশাজীবী ও উদ্ভাবকদেরও।
এই সমাবর্তন গ্র্যাজুয়েট ও তাদের পরিবারের জন্য একটি গৌরবময় মুহূর্ত। পাশাপাশি একটি নতুন ও বৃহত্তর দায়িত্বেও সংকেত। যেখানে জ্ঞানকে প্রজ্ঞার সাথে প্রয়োগ করতে হবে, দক্ষতাকে নৈতিকতার আলোকে পরিচালিত হতে হবে।

সমাবর্তনের বক্তা ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নাকিব। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইআইইউসি’র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী।

আরও বক্তব্য রাখেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য আ ন ম শামসুল ইসলাম। মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্য রাখেন আইআইইউসি’র ট্রেজারার এবং সমাবর্তনের কো-কনভেনার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

এএএম/ডিজে

ksrm