সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে হত্যা মামলার আসামি বিএনপি নেতা মো. কায়েস আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আদালতের ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি পটিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে অগ্নিসংযোগ মামলারও আসামি ছিলেন।
১ ফেব্রুয়ারি, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর বাকলিয়া থানার কল্পলোক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাকলিয়া ও চান্দগাঁও এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর মেজর আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।
মো. কায়েস (৪৪) ইউপি নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় কাশিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ছোট ভাই সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। পরে তিনি ওই মামলায় জামিনে মুক্ত হন।
জানা গেছে, পুলিশ ওই হত্যা মামলার যে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে, তাতে মো. কায়েসকে দোষী করা হয়নি। কারণ মামলাটিতে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে মামলার বাদি নারাজি দিলে পরে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিটে মামলাটির পুনঃতদন্ত শুরু হয়। বর্তমানে ওই হত্যা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে অগ্নিসংযোগ মামলায় মো. কায়েস হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন। পরে সেই জামিন স্থগিত হলে কিছুদিন তাকে কারাগারেও থাকতে হয়।
২০২৩ সালে পটিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বেশ্বর সিংহের আদালতে ম্যুরাল অগ্নিসংযোগ মামলায় হাজির করা হলে শুনানি শেষে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৮ মে পটিয়ার কাশিয়াইশ এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর ও এতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মোহাম্মদ কায়েস এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।
তবে কায়েসের পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই একটি কুচক্রীমহল তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা ও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। পূর্বে ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। যদিও আইন অনুযায়ী কারো বিরুদ্ধে আদালতের ওয়ারেন্ট থাকলে তা কার্যকর করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
বাকলিয়া থানা পুলিশ সূত্র জানায়, সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করা কায়েসকে থানায় হস্তান্তর করেছে। সোমবার তাকে পটিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২০২২ সালের ২২ এপ্রিল রাতে পটিয়ার বুধপুরা বাজারে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেমের ছোট ভাই সোহেল চৌধুরীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় একই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ কায়েসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ডিজে



