‘বিদেশ যাবে বলে আমার ছোট ছেলে আফজাল নিজের পাসপোর্ট বানিয়েছে। কিন্তু আমার আফজাল আমাকে রেখে চলে গেল। আমার ময়না আফজালরে, আমার বুকে আয়’— এভাবে বিলাপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন আফজালের মা শামসুন্নাহার।
তিনি বলেন, ‘১০ মাস আগে আমার স্বামীও আমাকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। এখন একবছর যেতে না যেতেই ছেলেও আমাকে রেখে চলে গেল। এখন আমি কি করে বাঁচি। কাকে নিয়ে বাচঁবো আমি? ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকেও আমাকে ফোন করে কথা বলেছিল। আমাকে সে বললো, ’মা তুমি ঠিক মতে খাওয়া-দাওয়া করছো তো? ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া করবে। আমি কিছুদিনের মধ্যে বাড়িতে তোমাকে দেখতে আসবো। কোনো চিন্তা করবেনা।’
নিহত মো. আফজাল হোসেন (২৬) সীতাকুণ্ড আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। লেখাপড়া ছাড়লেও বেকার ঘোরাফেরা তার পছন্দ ছিল না। তাই মাসিক ৭ হাজার টাকা বেতনে চাকরি নেন বিএম ডিপো কন্টেইনারে। গত একবছর ধরেই তিনি কাজ করছিলেন সেখানে। শনিবার (৪ জুন) ডিপোতে বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয়।
আফজালের বাড়ি সীতাকুণ্ড পৌরসদরের ভূঁইয়াপাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। তার পিতার নাম মৃত মো. সোলেমান।
শামসুন্নাহার বলেন, ‘চার ছেলের মধ্যে সবার ছোট আফজাল হোসেন। বার বার সে ফোন করে খবর নিতো আমার।’
আফজালের চাচা আব্দুল মান্নান ও মীর হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে আফজালের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।’
ডিজে