চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী’ বার্মা সাইফুল ঢাকায় আটক

চট্টগ্রামের আলোচিত সাবেক ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুলকে ঢাকা থেকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে এ বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি সিএমপির কর্মকর্তারা। তার বিরুদ্ধে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি ও পাঁচলাইশ এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে চট্টগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম তাকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। বার্মা সাইফুল পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী।

এ বিষয়ে জানতে সিএমপির গোয়েন্দা উত্তর জোনের উপ-কমিশনার হাবিবুর রহমানকে কল করা হলে তিনি সাড়া দেননি। তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা থেকে বার্মা সাইফুলকে আটক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাইফুলের ভাই ও ছাত্রদল নেতা মো. শাহীন জানান, আমার ভাই চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়েছে। ডিবির লোক পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়। চট্টগ্রামে পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউ আটকের বিষয়টি স্বীকার করেননি। আমরা দেশের জন্য এত কষ্ট করলাম। আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আমার ভাই পা হারিয়েছেন। জুলাই আন্দোলনে আমরা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছি। শেষ পর্যন্ত ভিত্তিহীন অভিযোগে আমার ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২০২১ সালের ১৬ জুন সিএমপির বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি টিম সাইফুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যায়। পরে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়েছে দাবি করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই ঘটনায় সাইফুলের একটি পা কেটে ফেলা হয়েছে।

পরবর্তীতে এ ঘটনায় ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাইফুলের মা ছেনোয়ারা বেগম বাদি হয়ে নালিশি মামলাটি দায়ের করেন।

সেই মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ১৬ জুন রাতে সাইফুল কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার বাসা থেকে বের হন। পরে স্থানীয়ভাবে পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত শাহজাহান তাকে জরুরি কথা বলার জন্য ডাকেন। একটি রেস্টুরেন্টে বসা অবস্থায় হঠাৎ সাইফুলকে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে একটি সাদা প্রাইভেটকারে তোলে পুলিশ কর্মকর্তারা। গাড়িটিতে করে তাকে কয়েক ঘণ্টা নগরের বিভিন্ন সড়কে ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে তাকে বায়জিদ লিংক রোডে আনা হয়। তখন রাত ১২টা থেকে ১টা বাজে। এসময় পুলিশ কর্মকর্তারা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকৃতি করলে সাবেক ওসি কামরুজ্জামান সাইফুলের পায়ে গুলি করেন। ঘটনার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একইসঙ্গে তাকে একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে সাইফুলকে ঘটনার পরদিন রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার বাম পা কেটে ফেলা হয়।

মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায়নি মর্মে ২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন নগর পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. শহীদুল ইসলাম।

জানা গেছে, নগরীর পাহাড়তলী, আকবর শাহ ও বায়েজিদে রয়েছে টেক্সটাইল মিল ও স্ক্র্যাপ ব্যবসা। এখানাকার তুলা ও স্ক্র্যাপ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করেন বার্মা সাইফুল। এছাড়া সরকারি পাহাড় কেটে প্লট তৈরি করে বিক্রি, অপহরণ, চাঁদাবাজি, পুলিশের ওপর হামলা, মাদকের আসর ও মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর চলে তার ইশারায়। তার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৫টি মামলা হয়েছে।

গত বছরের ১৮ নভেম্বর বার্মা সাইফুল ও তার সহযোগীরা হাসান নামে এক এস্কেভেটর ব্যবসায়ীর কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার অফিসে যান। ওই ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, একটি ভবনের সিঁড়ি দিয়ে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী ওপরে উঠছে। তাদের ৫ জনের হাতে অস্ত্র। এ ঘটনায় বার্মা সাইফুলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই ব্যবসায়ী।

আরএ/ডিজে

ksrm