মশাল মিছিলে উত্তাল টেকনাফ, মিয়ানমারের গুলি ও মাইন বিস্ফোরণের প্রতিবাদ

মিয়ানমার সীমান্ত থেকে গুলিবর্ষণ ও স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি নাগরিক আহত হওয়ার প্রতিবাদে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং স্টেশনে এক মশাল মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানায়। এতে প্রায় আধ ঘণ্টা উভয় পাশে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হোয়াইক্যং বাজার থেকে ছাত্র-জনতার উদ্যোগে মশাল মিছিলটি শুরু হয়ে তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে ‘সীমান্তে মানুষ মরে, প্রশাসন কী করে’ স্লোগান দিতে থাকে বিক্ষোভকারীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে হোয়াইক্যং এলাকার ফজল করিমের ছেলে মো. হানিফ (২৮) নাফ নদীতে মাছের প্রজেক্টে কাজ করার সময় আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণে তার বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত রোববার সকাল ৯টার দিকে মিয়ানমারের ওপার থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির ছোড়া গুলিতে হোয়াইক্যং তেচ্ছি ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের ১০ বছর বয়সী মেয়ে হুজাইফা আফনান মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এই দুই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ছাত্র-জনতা মশাল মিছিলের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার ও নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন চন্দ্র দে বলেন, মশাল মিছিল চলাকালে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ডিজে

ksrm