সাবেক এসপি বাবুল আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে এবার চট্টগ্রামে মামলা দায়ের করলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা। এর আগে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার নিজেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাবুল আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। দুই মামলাতেই আসামি ছাড়াও মামলার অভিযোগও প্রায় অভিন্ন। দুটি মামলাই দায়ের করা হয়েছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে।
সোমবার (১৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি দায়ের করেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা।
বনজ কুমার মজুমদারের মতোই নাইমা সুলতানার দায়ের করা মামলায়ও ‘মিথ্যা তথ্য’ প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। বাবুল আক্তার ছাড়াও মামলার আসামি করা হয়েছে তার ভাই হাবিবুর রহমান লাবু, বাবা আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাবেক সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনকে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, কারাগারে আটক থাকা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার মামলার তদন্ত ‘ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা’সহ বাংলাদেশ পুলিশ ও পিবিআইয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত আসামিদের নিয়ে ‘অপরাধমূলক বিভিন্ন অপকৌশল এবং ষড়যন্ত্রের’ আশ্রয় গ্রহণ করছেন।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যাকাণ্ড নিয়ে ‘মিথ্যা ও অসত্য তথ্য’ প্রচার করার অভিযোগে তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার, তার বাবা, ভাইসহ চারজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঢাকার ধানমণ্ডি থানায় মামলা করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।
মিতু হত্যা মামলায় ‘স্বীকারোক্তি আদায়ে’ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে এর আগে পিবিআই প্রধানসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেছিলেন বাবুল আক্তার। সেই আবেদন আদালত খারিজ করে দেওয়ার দুই দিনের মাথায় বাবুলের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার।
এই মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘বাবুল আক্তার, তার ভাই ও বাবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় কথিত সাংবাদিক ইলিয়াছ হোসাইন বিদেশে পলাতক থাকা অবস্থায় গত ৩ সেপ্টেম্বর তার ফেইসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে ‘স্ত্রী খুন, স্বামী জেলে: খুনি পেয়েছে তদন্তের দায়িত্ব’ শিরোনামে ৪২ মিনিট ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে বিভিন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্যের মাধ্যমে তদন্তাধীন মিতু হত্যা মামলার তদন্তকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করাসহ তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে প্রচার করা হয়।’
ছয় বছর আগে মিতু হত্যার ঘটনায় তার স্বামী বাবুল আক্তার যে মামলা করেছিলেন, সেই মামলায় তার বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দিয়েছে পিবিআই। ২০২১ সালের মে মাসে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
সিপি