s alam cement
আক্রান্ত
৭৮৪৩৬
সুস্থ
৫৪৬১৮
মৃত্যু
৯৩২

চবির ১১ প্রকল্প থেকে বেরিয়ে গেছে ১১৭ কোটি টাকা, কাজ শেষ হয়নি একটিও!

কর্তৃপক্ষের ‘স্নেহে’ ঠিকাদারদের পোয়াবারো

0

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১১টি বড় আকারের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে এমন প্রকল্পও আছে, যার নির্মাণকাজ চলছে প্রায় অর্ধযুগ ধরে। মূলত সব প্রকল্পেরই নির্মাণকাজ চলছে বছরের পর বছর ধরে। কিন্তু এমনই তার ধীরগতি, কাজ আর শেষ হয় না। বারবার শর্ত লঙ্ঘন করে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে উল্টো ঠিকাদারদেরই প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে। শুধু তাই নয়, ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে নেওয়া ২০০ কোটি টাকার এই ১১টি প্রকল্পের কোনোটিরই কাজ শেষ না হলেও ঠিকাদারদের ইতিমধ্যে ১১৭ কোটি টাকারও বেশি পরিশোধ করা হয়ে গেছে। এমনই কাণ্ড চলছে দেশের সর্ববৃহৎ এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজের টেন্ডার পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ঢালী কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ২০১৭ সালের ২০ জুলাই এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২২ কোটি ৪ লাখ টাকা কার্যাদেশ মূল্যে ২২ মাসে (৬৬৭ দিনে) এই নির্মাণকাজ শেষ করতে বলা হয়। কিন্তু কার্যাদেশ দেওয়ার ৪৮ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৬৫ শতাংশ। ইতোমধ্যে কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে তিনবার। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করেছে ১১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স ঢালী কনস্ট্রাকশনের ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান আসাদ চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, করোনার কারণে লোকবল সংকট, মালামাল সরবরাহ কম। এসব মিলিয়ে কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসেবে ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হলেও তিনি ৭৫ শতাংশ কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজ

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এই প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের চারগুণেরও বেশি সময় পার হলেও অর্ধেক প্রকল্পের কাজ আটকে আছে ৭০ শতাংশের মধ্যে। এখনও পর্যন্ত একটি প্রকল্পের কাজও শতভাগ শেষ হয়নি।

১১টি প্রকল্পের মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে ৫টির। ৭১ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে ৩টির। ৮১ থেকে ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে ২টির। এছাড়া অন্য প্রকল্পটির কাজ আটকে আছে ৫০ শতাংশেরও নিচে।

Din Mohammed Convention Hall

বারবার সময় নিয়েও কাজ শেষ না করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সময় বাড়িয়েই চলছে। বারবার সময় নিয়ে কাজ শেষ না করায় এসব প্রকল্পের কাজ আদৌ শেষ হবে কিনা এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরাও।

বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটর কোয়ার্টারের নির্মাণকাজ

২০১৭ সালের ২৩ জুলাই ৪ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আব্দুল খালেক ও মেসার্স এয়াকুব এন্ড ব্রাদার্স। কার্যাদেশে ১১ মাসে (৩৩৩ দিন) কাজ শেষ করতে বলা হয়। কয়েকবার মেয়াদ বাড়ানোর পর ৪৮ মাসে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৭৫ শতাংশ। ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজ

২০১৮ সালের ১৩ মে ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী। কার্যাদেশে সাড়ে ৬ মাসের (১৯৭ দিন) মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হলেও ৩৯ মাসে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৬৩ শতাংশ। এর মধ্যে সময় বাড়ানো হয়েছে পাঁচ বার। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

জননেত্রী শেখ হাসিনা হলের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজ

২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর ১৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা হলের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ম্যাক-এর আর এম ইঞ্জিনিয়ার। কার্যাদেশে সাড়ে ২৩ মাসে (৭০০ দিন) কাজ শেষ করতে বলা হলেও ৫৬ মাসে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৮৫ শতাংশ। ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৬ বার সময় বাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ১৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস এন্ড ফিশারিজের একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজ

২০১৮ সালের ১৩ মে ৩৫ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের যৌথভাবে কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আব্দুল খালেক ও মেসার্স অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। কার্যাদেশে ১৪ মাসে (৪১৩ দিন) কাজ শেষ করতে বলা হলেও ৩৯ মাসে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৭০ শতাংশ। এর মধ্যে সময় বাড়ানো হয়েছে কয়েকবার। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে ২০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজ

২০১৮ সালের ১৩ মে ৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢালী কনস্ট্রাকশন লি.। কার্যাদেশে সাড়ে ৬ মাস (১৯৭ দিন) মাসে কাজ শেষ করতে বলা হলেও ৩৯ মাসে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৯৪ শতাংশ। এর মধ্যে সময় বাড়ানো হয়েছে চার বার। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস এন্ড ফিশারিজের সম্মুখে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণকাজ

২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এই প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাশেম কনস্ট্রাকশান। কার্যাদেশে ৯ মাসে (২৬৩ দিন) কাজ শেষ করতে বলা হলেও ৩৩ মাসে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৪২ শতাংশ। এর মধ্যে সময় বাড়ানো হয়েছে দুই বার। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে ৫২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

প্রকৌশল দপ্তরের ভবন নির্মাণকাজ

২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট ৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রয়েল এসোসিয়েট। কার্যাদেশে ১০ মাসে (৩০৬ দিন) কাজ শেষ করতে বলা হলেও ৩৫ মাসে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৬৩ শতাংশ। এর মধ্যে সময় বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

জীববিজ্ঞান অনুষদের চতুর্থ পর্যায়ের নির্মাণকাজ

২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল ১৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের যৌথভাবে কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আব্দুল খালেক ও মেসার্স এয়াকুব এন্ড ব্রাদার্স। কার্যাদেশে ১৪ মাসে (৪১৫ দিন) কাজ শেষ করতে বলা হলেও ৩৯ মাসে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৮০ শতাংশ। এর মধ্যে সময় বাড়ানো হয়েছে চারবার। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে ১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ

২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে আলোচিত এই প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় মেসার্স অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। কার্যাদেশে ১ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলার পরও ৬ বছরেও শেষ হয়নি এই প্রকল্পের কাজ। মামলা জটিলতা ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনীহার কারণে বর্তমানে অনেকটা বন্ধ রয়েছে এই প্রকল্পের কাজ। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৭১ শতাংশ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এই কাজের জন্য পরিশোধ করা হয়েছে ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন জায়গায় সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হচ্ছে অনেকটা দিনেদুপুরে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৫০ বছর পর দীর্ঘ ১৩ কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেন। সীমানা প্রাচীরের নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে তা বন্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় ভূমিদস্যুরা ওঠেপড়ে লাগে। কয়েক দফা সংঘর্ষ ও মামলার ঘটনাও ঘটে। সবকিছু সামলে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ চালিয়ে যায় তৎকালীন প্রশাসন। নির্মাণকাজ ৬৫ ভাগ সমাপ্ত হওয়ার পর বিভিন্ন হুমকি-ধমকিতে ২০১৯ সালের ৭ জুলাই থেকে নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রেখেছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবনের নির্মাণ কাজ
দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবনের নির্মাণ কাজ

দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের নির্মাণকাজ

৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবনের নির্মাণ কাজ ২২ মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও ৫৬ মাসেও তা শেষ হয়নি। দফায় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও ৫৬ মাসে কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৬৫ শতাংশ। বর্তমানে এক বছর ধরে এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার (২৪ জুলাই) কাজের মেয়াদ আরও এক দফা ৬ মাস বাড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এই কাজের জন্য ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে ৩৭ কোটি টাকা।

জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ক্ষোভ

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোন প্রকার চাপ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ানোর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। তারা বলছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যখন বারবার সুযোগ পেয়েও কাজ শেষ করছে না, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত ছিল তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করে নতুন করে টেন্ডার দেওয়া। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তারা সেটা করছে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক প্রক্টর চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার পিছনে দুটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, হতে পারে ঠিকাদাররা খুব প্রভাবশালী। রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কিছু করা যায় না। দ্বিতীয় হতে পারে, পুনরায় ই-টেন্ডার দিতে যে ঝামেলা ও ঝুঁকি— তা এই প্রশাসন নিতে চাইছে না।

যা বলছেন ঠিকাদাররা

জননেত্রী শেখ হাসিনা হল ও অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের নির্মাণকাজের ঠিকাদারি করছেন মেসার্স মঞ্জুরুল আলম চৌধুরীর স্বত্ত্বাধিকারী মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘আমাদের দুইটা কাজই প্রায় শেষের দিকে। একটা প্রকল্পের রঙ ও সিঁড়ির টাইলসের কাজ বাকি আছে। লকডাউনের কারণে ঠিকভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। কাজ শেষ হলে দ্রুত বুঝিয়ে দেবো।’

প্রকৌশল দপ্তরের ভবন ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের কাজ করছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘প্রকৌশল দপ্তরের কাজ যখন শুরু করি, তখন তারা অর্ধেক জায়গা বুঝিয়ে দিছে। বাকি অর্ধেক জায়গায় তারা অফিস করছে। এই অর্ধেক জায়গা বুঝিয়ে দিতে দেরি হওয়ায় কাজ ঠিক সময়ে শেষ করা হয়নি। আমরা ৬ মাস মেয়াদ বাড়ানোর জন্য চিঠি দিয়েছি। আর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের কাজ ৯৮ শতাংশ শেষ।’

তবে অন্যান্য প্রকল্পের ঠিকাদার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

প্রকৌশলীরা যা বলছেন

বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোল্যা খালেদ হোসেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি দুইটা প্রকল্পের সাথে যুক্ত আছি। এর মধ্যে কলা অনুষদের মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানো হয়েছে। আর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে আছি। কিছু ফিনিশিং বাকি আছে। বৃষ্টির কারণে সেটা করা সম্ভব হচ্ছে না।’

আরেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ছৈয়দ জাহাঙ্গীর ফজল বলেন, ‘আমি যে প্রকল্পগুলো দেখাশোনা করি সেগুলোর কাজ দিনে চলে। তবে কত শতাংশের কাজ শেষ হয়েছে তা এই মুহূর্তে বলতে পারবো না। আনুমানিক সবগুলোরই ৬০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সাত আট মাস হলো আমি সীমানা প্রাচীরের নির্মাণকাজের সাথে যুক্ত হয়েছি। সীমানা প্রাচীরের কাজ চলতেছে। এখনও পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।’

প্রশাসন যা বলছে

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান বলেন, ‘এগুলো নিয়ে প্রচুর কথা হয়েছে। এখন আর কিছু বলবো না। প্রকল্পের মেয়াদ যেন আর বাড়াতে না হয় সে ব্যবস্থাই আমরা করবো।’

সিপি

ManaratResponsive

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm