চাঁদাবাজিতে বাঁধা পেলে ‘খুন’ করতে বুক কাঁপে না সন্ত্রাসী টেডি দিদারের

২০১৯ সালে একই কারণে খুন হন সাবেক ছাত্রনেতা মহিউদ্দিন সোহেল

0

চট্টগ্রামের রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী এলাকায় বেড়েই চলেছে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য। রেলের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, কোয়ার্টারে গুদাম ভাড়া থেকে শুরু করে জায়গা পজিশন বিক্রি করে এককালীন টাকা নেওয়া ঘটনাও ঘটছে প্রতিদিন। আর এসব নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত তিন বছরে খুন হয়েছে দুইজন।

গত ৮ মে রাত ১১টা ডবলমুরিং থানার পাহাড়তলী স্টেশনের সামনে অবৈধ স্থাপনা তৈরির জের ধরে সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ হারান ফরিদ (৪৫) নামের এক ব্যক্তি। তিনি পাহাড়তলী পিডাব্লিউ কলোনির মৃত জাফর আহমেদের ছেলে।

জানা যায়, পাহাড়তলী স্টেশনের সামনে অবৈধভাবে গোডাউন নির্মাণ করেন চাল ব্যবসায়ী মজুমদার নামের এক ব্যক্তি। তার কাছে স্থানীয় সন্ত্রাসী দিদারুল ইসলাম ওরফে টেডি দিদার, আলো, মনা, সোহাগ চাঁদা চাইতে যান। এরপর এ ঘটনায় শুভ মজুমদারের পক্ষে ফরিদ আসলে তাকে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে সড়কের ওপর পিটিয়ে খুন করে।

ফরিদকে পেটানোর একটি ভিডিও ফুটেজ চট্টগ্রাম প্রতিদিনের হাতে এসেছে।

এ ঘটনায় ফরিদের বোনের স্বামী মনসুর বাদি হয়ে ১১ জনকে আসামি করে ডবলমুরিং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ টেডি দিদার, আলো ও মনাকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে ২০১৯ সালে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাহাড়তলী বাজারের রেলওয়ে কলোনিতে টেডি দিদার বাহিনীর হাতে খুন হন যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন সোহেল। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

তবে গোডাউন নির্মাণকে কেন্দ্র করে খুনের বিষয় অস্বীকার করে মজুমদার (৫৫)বলেন, ‘রেলের জায়গায় অবৈধ ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে খুন হন ফরিদ।’

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভেলুয়ার দীঘি এবং পাহাড়তলী স্টেশন কলোনির উভয় পাশে রেলের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে পিকআপ স্ট্যান্ড তৈরি, অবৈধ দোকান নির্মাণ ও ডিমের আড়ৎ ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাস্তার পাশে কোয়ার্টারগুলোতেও রাখা হচ্ছে ডিম। এলাকার আশপাশে আড়ৎ থেকে ফেলা পচা ডিমের দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব পিকআপ স্ট্যান্ডে একটি গাড়ি রাখলে গাড়িভেদে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। প্রতিদিন গড়ে এখান থেকে চাঁদা ওঠে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি। এছাড়া অবৈধ স্থাপনায় নির্মাণ করে দৈনিক ভাড়া আদায় করা হয়। একইসঙ্গে রেলের জায়গার পজিশনও বিক্রি করে থাকে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এজন্য তারা এককালীন একটি অর্থও নেন সেই পজিশন ক্রেতার কাছ থেকে। এভাবে প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ টাকা চাঁদা তোলেন স্থানীয় সন্ত্রাসী টেডি দিদার ও তার বাহিনী।

স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান বলেন, রেলওয়ে থেকে গতবছর এসব অবৈধ স্হাপনা ভেঙে দেয়। পরে সন্ত্রাসী বাহিনী আবারও এসব জায়গার পজিশন বিক্রি করে। একইসঙ্গে মাসিক ভাড়াও আদায় করছে এসব অবৈধ দোকান থেকে। পঁচা ডিমের দুর্গন্ধে পাহাড়তলী বাজারে যাওয়া যায় না। এছাড়া পিকআপগুলোর জন্য পাহাড়তলী বাজারে ঢুকতে কয়েক ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পিকআপ চালক বলেন, ‘দৈনিক গাড়িপ্রতি ১০০ টাকা দিয়ে পিকআপ রাখতে হয়। এছাড়া পাহাড়তলী বাজার রেলওয়ে কোয়ার্টার জলদাখানা, জোড় ডেবার পাড়ের রেলের জায়গা দখল করেও চলছে ভাড়া বাণিজ্য। প্রতিদিন যানবাহন থেকে চাঁদা আদায়, মাসে মোটা টাকা ভাড়া আদায়, নগদ টাকায় পজেশন বিক্রিসহ লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি হয়।’

এদিকে পাহাড়তলী স্টেশনের আশপাশে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর দেখভাল করার কথা থাকলেও তারাও এসব কাজে সহযোগিতা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পাহাড়তলী স্টেশন নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বে থাকা হাবিলদার নোমান বলেন, ‘স্টেশনের বাইরে আমাদের কোনো ডিউটি নেই।’

অবৈধ স্হাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে বিভাগীয় ভূসম্পদ কর্মকর্তা (পূর্ব) মাহবুব উল করিম বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm