গ্রেপ্তারের সময় তিন আসামির হাত থেকে চারটি মোবাইল ফোন পায় পুলিশ। যদিও এসব মোবাইল জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। চারদিন পর আসামিরা জামিনে কারামুক্ত হয়।
এরপর গ্রেপ্তারের সময় নেওয়া মোবাইল ফেরত চান আসামিরা। কিন্তু ঘটনার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও ভুক্তভোগীদের চারটি মোবাইল ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশে (সিএমপি) কর্মরত এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ওই এসআই হলেন নুরুল ইসলাম দীপু। তিনি সিএমপির খুলশী থানায় কর্মরত রয়েছেন। যদিও তার দাবি, এই অভিযোগ মিথ্যা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাধারণত পুলিশ গ্রেপ্তারের সময় মোবাইল, টাকাসহ অন্যান্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পেলে সেগুলো আসামির নিকটাত্মীয়দের ফেরত দেন। অথবা জামিনে বের হলে আসামিদের ফেরত দেন। তবে মামলার আলামত হিসেবে গ্রেফতারের সময় আসামির কাছ থেকে মোবাইল, টাকা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নথি পায়, সেগুলো জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এসব মালামাল আদালতের নির্দেশে জব্দ কিংবা মালিকের কাছে ফেরত দিয়ে থাকেন। কিন্তু খুলশী থানার কর্মরত এসআই নুরুল ইসলাম আসামি গ্রেপ্তারের সময় পাওয়া মোবাইল জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্তও করেননি। আবার ভুক্তভোগীরা জামিনে বের হওয়ার পর একাধিকবার তার কাছে ধর্ণা দিলে তিনি মোবাইলগুলো ফেরত দিচ্ছেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ মারধরের অভিযোগে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। এই মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় খুলশী থানার টাইগারপাস কলোনি এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে এসআই দীপলু কুমার বড়ুয়া। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মিজানুর রহমান বাবু, টিংকু দত্ত ও মো. আকাশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায় দুটি অ্যান্ড্রয়েট মডেলের ও দুটি সাধারণ মডেলের মোবাইল ফোন। গ্রেপ্তারের পর মোবাইলসহ আসামিদের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুরুল ইসলামের কাছে বুঝিয়ে দেন এসআই দীপলু। এসআই নুরুল ইসলাম গ্রেপ্তার তিনজনকে ১ এপ্রিল আদালতে ফরোয়ার্ড করেন। ওই সময় তিনি জব্দ হওয়া মোবাইল নথিতে উল্লেখ করেননি। এ ঘটনার চারদিন পর ৪ এপ্রিল তিনজনই আদালত থেকে জামিন পান।
ওই তিনজনের অভিযোগ, জামিনের পরপরই তারা মোবাইল চারটি নেওয়ার জন্য এসআই নুরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে নুরুল ইসলাম তাদের ‘আজ দেবে, কাল দেবে’ বলে বিলম্ব করতে থাকে। একপর্যায়ে নুরুল ইসলাম তার সোর্স আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভুক্তভোগীরা মোবাইল ফেরত নেওয়ার জন্য এক হাজার টাকা দেন। তবে এই টাকা পরিমাণে কম হওয়ায় মোবাইল ফেরত পাননি ভুক্তভোগীরা। পরে আরিফ ভুক্তভোগীদের এক হাজার টাকা ফেরত দেন। এভাবে চলে যায় প্রায় দেড় মাস। ১৫ মে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মোবাইল চারটি ফেরত দেননি এসআই নুরুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী মো. আকাশের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ছোটভাই কল রিসিভ করেন। তিনি বলেন, ‘ভাই আমরা বিপদে আছি। এটা নিয়ে আমরা কোনো নিউজ করতে চাচ্ছি না।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইলগুলো নিয়ে যেতে বলছি। গ্রেপ্তারের পর আসামির কাছ থেকে পাওয়া অনেক জিনিস পরিবারের সদস্যদের দিয়ে দেওয়া হয়। সেজন্য মোবাইল জব্দ তালিকায় রাখা হয়নি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মিশু দাশ বলেন, ‘আসামির কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে, জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না রেখে আটকে রাখা বেআইনি।’
আরএম/ডিজে