চোখের জলে চিরবিদায় মিশু-নিশামনির, মৃত্যুও ছিন্ন করতে পারেনি বন্ধন

0

মৃত্যুও ছিন্ন করতে পারেনি দুই বান্ধবীর বন্ধন। প্রতিদিন একই সঙ্গে স্কুলে যেতো, একই সঙ্গে ফিরতো। মৃত্যুতেও যেন একজন ছেড়ে যায়নি অন্যজনকে। দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে যাওয়া, আবার সেখান থেকে লাশ হয়ে ফেরাও একইসাথে।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জিপ চাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থী নিশামনি ও মিশুর এমন চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না কেউ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি তাদের জানাজায় আসা আত্মীয় স্বজন, এলাকার লোকজন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, একইসাথে স্কুলে আসা-যাওয়া দুই বান্ধবী হাসপাতাল ঘুরে বাড়িও ফিরেছে একসাথে। যদিও আজ জীবন নিয়ে আসেনি, এসেছে তাদের নিথর দেহ।

একই গ্রামে দুইজনের জানাজা শেষে দাফন হয়েছে আলাদাভাবে। মিশু শুয়ে আছে পাইন্দং বড়দিঘীর পাড়ে ও নিশামনি হযরত রহমত উল্লাহ শাহ মাজার প্রাঙ্গন কবরস্থানে। দুর্ঘটনার পর থেকে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো ফটিকছড়ি।

হাইদচকিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বিএম গোলাম নুর বলেন, দুই শিক্ষার্থীই লেখাপড়ায় ভাল ছিল। ক্লাসে সবসময় উপস্থিত থাকতো। স্কুলে পড়ার সব কাজ সময় মতো শেষ করতো।

তিনি বলেন, স্কুলে মিলাদ পড়ানো হয়েছে, এক সপ্তাহের জন্য শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনার পর পর আমি লাশের সঙ্গেই ছিলাম, মামলার তদারকি করেছি।

মিশু আক্তারের চাচা মোহাম্মদ আইয়ুব কাঁদতে কাঁদতে বলেন, মিশু ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কথা বলতো সবসময়। আমাদের এলাকায় পলিটেকনিক কলেজে পড়ার ইচ্ছা ছিল মিশুর। কিন্তু আমরা তার স্বপ্নকে বাস্তায়ন করতে পারলাম না। আমি ফটিকছড়ি থানায় মামলা দায়ের করেছি। জীপের ড্রাইভারের বিচার চাই আমি।

নিহত নিশামনির মা নুরবাণু বলেন, মেয়ে উকিল হওয়ার স্বপ্ন দেখতো। প্রতিদিন স্কুলে যেতো। লেখাপড়ায় মনোযোগী ছিল। আমিও আমার মেয়েকে উকালতি পড়ানোর স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু কে জানতো মেয়ে আমাকে ফাঁকি দিয়ে চলে যাবে।

প্রসঙ্গত বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফটিকছড়ি উপজেলার চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের পেলাগাজী দিঘী এলাকায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাঁদের গাড়ি চাপা দিলে নিহত হন দুই স্কুল ছাত্রী।

নিহত মিশু আকতার (১৬) দক্ষিণ পাইন্দং মোল্লার বাড়ির আবুল বশরের কন্যা ও নিশা মনি (১৮) একই এলাকার মোহাম্মদ লোকমানের কন্যা। তারা দুজনই হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ থেকে ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

এএস/কেএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm