সন্তান বিক্রির জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এক পর্যায়ে প্রকাশ্যে সড়কের ওপর স্বামীর ছুরির আঘাতে প্রাণ হারান স্ত্রী। অভিযোগ উঠে, তৃতীয় সন্তানকে মৃত দেখিয়ে বিক্রি করে দেন জসিম। এরপর পারিবারিক কলহের জেরে তৃতীয় বিয়েও করেন তিনি।
নিহত গৃহবধূ সালমা আক্তার (৩৮) জসিম উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাদের দাম্পত্য সংসারে রয়েছে দুই সন্তান।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বি-ব্লকের ১৪ নম্বর গ্যারেজের সামনে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় প্রকাশ্যে সড়কে সালমা আক্তারকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালানোর চেষ্টা করেন জসিম উদ্দিন। তবে উপস্থিত জনতা দ্রুত তাকে ধরে গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এসময় গুরুতর আহত অবস্থায় সালমা আক্তারকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সালমা আক্তারের বোন রিমা আক্তারকে বলেন, আমার বোনের সঙ্গে জসিম উদ্দিনের বিয়ে হয়। আমাদের বাড়ি ভোলায়। তাদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে, একজনের নাম জাহেদ আরেকজনের মুমতাহীনা। আমাকে কয়েকদিন আগে বলেছিল, জসিম আরেকটি বিয়ে করেছে। এর আগে আমার বোনের সংসারে আরেকজন সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা দেয় জসিম। পরে নবজাতককে বিক্রি করে দেয়। এটি আমার বোন জানতে পারলে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এক পর্যায়ে আমার বোনকে ছুরি মেরে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা জসিমকে ধরে পুলিশে দেয়।
ঘটনার প্রত্যেক্ষদর্শী তাদের সন্তান মুমতাহীনা জানায়, আমার মায়ের সঙ্গে আমার বাবার ঝগড়া হয়, এসময় আমার বাবা আমার মাকে ছুরি মেরে পালিয়ে যায়। আমার বাবাকে সবাই ধরে নিয়ে যায়। আমার আরেকটা ভাই আছে। তার নাম জাহেদ। সে আমার দাদুর বাড়িতে থাকে।
স্থানীয়রা জানান, জসিম উদ্দিন আগে এরকম ছিল না। কিন্তু এখন নেশাগ্রস্ত। আজ তার স্ত্রীকে ছুরি মেরে পালিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন মিলে তাকে ধরে পুলিশে দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হোসেন মামুন বলেন, স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে (জসিম) ধরে স্থানীয়রা পুলিশে দেয়। কিন্তু কি জন্য মেরেছে, সেটি এখনও জানা যায়নি।
পিএ/ডিজে

