s alam cement
আক্রান্ত
৩৫১০৮
সুস্থ
৩২২৫০
মৃত্যু
৩৭১

‘সন্ত্রাসী মহড়া’ মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বাড়িছাড়া, তালিকায় নাম গেল সাংসদের ভাইয়ের

0

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কমপক্ষে ৩ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দপ্তর সেলে পাঠানোর নিয়ম থাকলেও সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়ন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন এককভাবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জিল্লুর রহমান। জিল্লুর রহমান সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতার ছোট ভাই। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন তিনি।

ফলে আগের নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে না দলটির এমন অবস্থানের মধ্যেই আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের জন্য এককভাবে নাম যায় আগের নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা জিল্লুর রহমানের।

সোমবার (৮ মার্চ) সন্দ্বীপের উপজেলা চেয়ারম্যান মাস্টার শাহজাহান বিএর বাসভবনে অনুষ্ঠিত বাউরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় ইউপি নির্বাচনে শুধু মাত্র জিল্লুর রহমান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান।

জানা গেছে সাংসদের ভাইকে একক প্রার্থী দেয়ার ইচ্ছা পূরণ করতে তার বাধার মুখে এই ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাননি কেউ। এই ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে পর পর দুবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক জামাল উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন সন্দ্বীপী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য মো. আলাউদ্দিন রিপন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর ইসলাম চিন্টুর নাম আলোচনায় ছিল।

এদের মধ্যে জামাল উদ্দিন চৌধুরী ও দেলোয়ার হোসেন সন্দ্বীপী বর্ধিত সভাতে উপস্থিতও ছিলেন না। অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী জাহাঙ্গীর ইসলাম চিন্টু বর্ধিত সভায় গেলেও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিতে নাম না থাকার অজুহাতে তাকে বর্ধিত সভা থেকে বের করে দেয়া হয়। বাকি সময় উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবনের সামনেই দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।

Din Mohammed Convention Hall

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাউরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন নেতা চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘এমপির ছোট ভাইকে একক প্রার্থী দেয়ার জন্য এখান থেকে সকলকে মনোনয়ন চাইতে নিষেধ করে দেয়া হয়। তবু কেউ কেউ কিনার জন্য আগ্রহী ছিলেন। তবে কাল (৭ মার্চ) ভোর ৪ টার দিকে দেলোয়ার হোসেন সন্দ্বীপীর বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটার পর সবাই হাল ছেড়ে দেন।’

দেলোয়ার হোসেন সন্দ্বীপী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক। দেলোয়ার হোসেন সন্দ্বীপীর বাড়িতে হামলার বর্ননা দিয়ে ওই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘প্রথমে এমপি মহোদয় বিভিন্ন জনের মাধ্যমে উনাকে মনোনয়ন নিতে না করেন। তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় ৭ মার্চ ভোর ৪ টার দিকে উনার বাড়িতে সন্ত্রাসী পাঠানো হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। এমনকি উনার ফোনটাও বন্ধ করে দেন।’

দেলোয়ার হোসেন সন্দ্বীপীর বাড়িছাড়া হওয়ার ঘটনা সবাইকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে মন্তব্য করে ওই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘সন্দ্বীপী খুব সৎ, সাহসী, আপোষহীন আর সুবক্তা হিসেবে পরিচিত। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও অসহযোগের সময়ে দুবার তিনি সেনাবাহিনীর হাতে মার খেয়েও মাঠ ছাড়েননি। বিএনপির চরম নির্যাতনের মুখেও তিনি এলাকা ছাড়েননি কখনো। সেই মানুষকে যখন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে হলো স্বাভাবিকভাবেই আর কেউ সাহস পায়নি এমপির সিদ্ধান্ত অমান্য করার।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন সন্দ্বীপী চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘সব সত্য ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ থাকতেই হবে এমন কোন কথা নেই। আমি ইউনিয়ন নির্বাচন নিয়ে একটি শব্দও কথা বলতে রাজি নই।’

অন্যদিকে মনোনয়ন না কিনার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আলাউদ্দিন রিপন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘যখন দেখলাম আমার চেয়ে জিল্লুর সাহেব চেয়ারম্যান হলে ভাল হয় তখন আমি মনোনয়ন পত্র না কেনার সিদ্ধান্ত নিই। আমাকে এমপি সাহেব কিছু বলেননি তবে এমপি সাহেবের শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকে বলেছেন এই বিষয়ে। আমার কাছে তাদের কথা যৌক্তিক মনে হয়েছে আমি তাই কিনিনি। সমাজে থাকতে হলেতো সামাজিক শিষ্ঠাচার মেনেই থাকতে হয়, তাইনা?’

এছাড়া ইউনিয়নটির বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক জামাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

এসব বিষয়ে কথা বলতে সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতাকে ফোন দেয়া হলে তিনি কল রিসিভ করার পর বর্ধিত সভার প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে আপনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলুন।’ এটুকু বলেই সাথে সাথে ফোন কেটে দেন তিনি।

তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার শাহজাহান বিএ ও সাধারণ সম্পাদক মাইন উদ্দিন মিশনকে কয়েক দফায় কল দিলেও তারা কল রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এআরটি/এমএহক

ManaratResponsive

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm