s alam cement
আক্রান্ত
৩৫১০৮
সুস্থ
৩২২৫০
মৃত্যু
৩৭১

৩ কোটি টাকার গ্যাস ডিটেক্টর, লিকেজ খুঁজতে কর্ণফুলী গ্যাসের লঙ্কাকাণ্ড

0

২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের পাথরঘাটা ব্রিক ফিল্ড রোডের পাঁচতলা বড়ুয়া ভবনের নিচতলায় গ্যাসের পাইপলাইনে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের পর ভবনের একাংশের দেয়াল ধসে পড়ে। এ ঘটনায় ৭ জন নিহত হন, আহত হন ১০ জন। পরে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। সে সময় এ ঘটনায় কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) এর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে।

এ দুর্ঘটনার বেশ কিছুদিন পর বিভিন্ন বাসা বাড়ির গ্যাসের লাইনে লিকেজ খুঁজে বের করতে ২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেয় কেজিডিসিএল। ‘মোবাইল গ্যাস ডিটেক্টর’ নামে প্রকল্পটি ২০২০ এর শেষে টেন্ডার হলেও কাজ শুরু হয়েছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে। তবে এরই মধ্যে এ পাইলট প্রকল্পটির সক্ষমতা আর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।

জানা গেছে, মোবাইল গ্যাস লিকেজ ডিটেকটর নামের এই প্রকল্পে একটি মেশিনের সাহায্যে গ্যাস লাইনের লিকেজ অনুসন্ধানের কাজ করা হয়। সিঙ্গাপুরভিত্তিক জিকম ইকুয়েপমেন্ট লিমিটেড কোম্পানি এই মেশিন সরবরাহ করেছে। প্রকল্প গ্রহণের সময় বলা হয়েছিল, বিশেষায়িত একটি গাড়িতে স্থাপিত ওই মেশিন দিয়ে চট্টগ্রাম শহরের সব গ্যাস লাইনের লিকেজ অনুসন্ধান করা হবে। একই সাথে রাইজার পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হবে। বিশেষায়িত গাড়িটি একটি রাস্তা দিয়ে চলার সময় দুই পাশের অন্তত ৬০ ফুটের মধ্যে গ্যাস লাইনের যত লিকেজ আছে সব চিহ্নিত করবে। সবগুলো লিকেজের তথ্য গাড়িতে রাখা কম্পিউটার মনিটরে ধরা পড়বে। তখন গ্রাহককে লিকেজ মেরামত করার জন্য সতর্ক করে আসবে প্রকল্প কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রামে স্থাপন করা গ্যাস লাইন রাইজারগুলো দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের হওয়ায় বহু লাইনে মরিচা এসেছে। লিকেজ এসেছে। পুরাতন রাইজারের রেগুলেটর এবং ভাল্ব নষ্ট হয়েছে। কিন্তু একটি করে রাইজার পরীক্ষা করা, লিকেজ উদ্ধার এবং মেরামত করা কঠিন ব্যাপার। আবার লাইনের লিকেজ চিহ্নিত করাও কঠিন। তাই এ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল।

তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। মূলত মেশিনটি কাজ করবে রাস্তার পাশের ভবনে। তাছাড়াও সবচেয়ে যে বড় গলদ তা হলো, গ্যাস লাইনের লিকেজ চিহ্নিত করে গ্রাহককে তা মেরামতের নির্দেশ দিয়ে আসছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কিন্তু গ্রাহক তা মেরামত করছেন কি-না সে ব্যাপারে কেজিডিসিএল-এর কোনো তদারকি নেই। ফলে লিকেজ চিহ্নিত করলেও তার সমাধান মিলছে না। তাই ঢাকঢোল পিটিয়ে গাড়ি যন্ত্রপাতি নিয়ে লিকেজ খুঁজে বের করাটাকে কেবল তামাশা হিসেবেই দেখছেন নগরবাসী।

Din Mohammed Convention Hall

গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া গ্যাস লাইনের লিকেজ চিহ্নিত করা হয়েছে ৩২৫টি। এর মধ্যে গ্রাহক মেরামত করেছে ৭৫টি লিকেজ। এ হিসেব ১৩ মার্চ বিকেল পর্যন্ত। চট্টগ্রাম নগরীতে বাসাবাড়ি, অফিস, দোকান, রেস্টুরেন্টে যেখানেই গ্যাসের লাইন রয়েছে চট্টগ্রামে সে লাইনের প্রতিটার সাথেই জড়িয়ে রয়েছে ঝুঁকি, মৃত্যুফাঁদ। কারণ এসব গ্যাসলাইন বেশিরভাগ ৪০ বছরের পুরোনো। স্থাপিত লাইনের অর্ধেকের মেয়াদ পেরিয়েছে অনেক আগেই।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীতে মোট ৩ হাজার ২০০ কিলোমিটার পাইপলাইন থাকলেও এ প্রকল্পের আওতায় সার্ভে করা হবে ৮৪০ কিলোমিটার। মোবাইল ডিটেক্টর গাড়িটি মূলত খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জ, চাক্তাই, বায়েজিদ, ইপিজেডসহ শিল্পপ্রধান এলাকাগুলোর গ্যাস লিকেজ চিহ্নিত করবে।

সংশ্লিস্ট কেজিডিসিএল কর্মকর্তাদের অনেকেও এ প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন। কারণ চট্টগ্রামের ঘনবসতি এমন সব এলাকা রয়েছে যেখানে গাড়ি প্রবেশ তো দূরে থাক, দুজন মানুষও একসাথে ঢুকতে পারে না। মূলত এসব গিঞ্জি এলাকায় বসবাসরত বাসাবাড়িতেই গ্যাস লাইন ও রাইজার ঝুকিপূর্ণ রয়েছে। তাই এ প্রকল্পের গাড়ি যদি এসব এলাকায় না যেতে পারে, তবে প্রকল্পের উদ্দেশ্য মুখ থুবড়ে পড়বে।

কেজিডিসিএল এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সারোয়ার জাহানের সাথে প্রকল্পটির এসব সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কেএস

ManaratResponsive

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm