ছয় বছর পর চট্টগ্রামে এলো পৃথিবীর একমাত্র উড়ন্ত চক্ষু হাসপাতাল ‘অরবিস’। বিশ্বের একমাত্র চক্ষু চিকিৎসা শিক্ষা ও সার্জিক্যাল হাসপাতালটি ১২ দিন চট্টগ্রামের চোখের ডাক্তার, নার্স ও টেকনোলজিস্টদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন উড়ন্ত চক্ষু হাসপাতালে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে চট্টগ্রামের ডাক্তার-নার্সদের উন্নত প্রযুক্তি ও কাজের ধারণা দেওয়া হবে।
রোববার (১৭ নভেম্বর) বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে এ চিকিৎসা প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
চক্ষু হাসপাতালের এমরান হলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে প্রকল্পের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামে চোখের চিকিৎসায় চক্ষু হাসপাতাল অসামান্য অবদান রেখে চলেছে। অরবিস প্রযুক্তি বিনিময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গত ২২ বছর ধরে তারা বাংলাদেশে আসছে। মানবতার সেবায় অবদান রেখে চলেছে।’
তিনি বলেন, ‘মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই আমি ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট সেন্টার স্থাপন করেছি মেমন হাসপাতালে। দরিদ্র্য রোগীদের জন্য একটি কিডনি ডায়লাইসিস সেন্টার সেখানে করার চেষ্টা করছি। বিপ্লব উদ্যানটি পার্কে ফিরিয়ে নিতে ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি। আমি প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘আরবান ডিসপেনসারি’ করতে চাই। সিটি কর্পোরেশনের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোকে ‘জেনারেল হাসপাতালে’ পরিণত করতে চাই, যাতে মানুষ সেবা নিতে পারে।’
মেয়র বলেন, ‘আমাদের ওয়েস্ট প্রডাক্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট করা জরুরি। যাতে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়া যায়। আবর্জনা থেকে জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করলে ক্লিন, গ্রিন ও হেলদি সিটি করতে পারবো।’
বাংলাদেশে ফ্লাইং আই হসপিটাল প্রজেক্ট আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মো. মুনিরুজ্জামান ওসমানীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন অরবিস ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডেরেক হডকি।
ডেরেক হডকি বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সিইআইটিসির সহযোগিতায় বাংলাদেশে উড়ন্ত চক্ষু হাসপাতাল প্রকল্প আবারও শুরু করতে পেরে গর্বিত। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের চোখের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অরবিসের লক্ষ্য একটি শক্তিশালী এবং টেকসই চোখের চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।’
সিআইআইটিসি’র প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ড. রবিউল হোসেন বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী চক্ষু চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অরবসি ইন্টারন্যাশনাল চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিগত ২৫ বছর আগ থেকে কাজ শুরু করেছে। অরবিস বাংলাদেশে আধুনিক চক্ষু চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসক, নার্সদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিব ব্যাপারে যথেষ্ট ভূমিকার পাশাপাশি সহযোগিতা দিয়ে আসছে।’
এতে আরও উপস্থিত বক্তব্য রাখেন অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ, অরবিস ফ্লাইং আই হসপিটালের ডিরেক্টর মরিস গ্যারি, সিইআইটিসি’র মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. রাজিব হোসেন।
অরবিসের এ প্রশিক্ষণ শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইং আই হসপিটাল এবং অরবিসের পার্টনার হাসপাতাল চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। প্রশিক্ষণের মূল বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে ছানি, গ্লুকোমা, রেটিনা, অকুলোপ্লাস্টি এবং কর্নিয়ার রোগের চিকিৎসা। এছাড়াও রয়েছে নিউরো অফথালমোলজি ওয়ার্কশপ, অপটোমেট্রি ওয়েবিনার, নার্সিং এবং বায়োমেডিক্যাল সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে এবং চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সার্বিক সহযোগিতায় চট্টগ্রামে পঞ্চম বারের মতো এলো উড়ন্ত চক্ষু হাসপাতাল ‘অরবিস’। এর আগে এসেছিল ২০১৭ সালে।
এছাড়া বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ১১তম বারের মতো আগমন। দেশে সর্বপ্রথম এটি আসে ১৯৮৫ সালে। এ প্রকল্পে সহায়তা করেছে অ্যালকন কেয়ারস, অ্যালকন ফাউন্ডেশন, ফেডেক্স, অফথালমোলোজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওএসবি), বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন (বিসিপিএস) এবং ন্যাশনাল আই কেয়ার।
এর আগে রোববার সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহ্বুব খান।
আরও উপস্থিত ছিলেন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আব্দুল্লাহ আলমগীর।
ডিজে