চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর জামিন না দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে আইনজীবী হত্যার ঘটনায় অব্যাহতি চেয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে গঠন করা তদন্ত কমিটি। তারা এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছেন। এর আগে কমিটির সদস্যসচিবসহ চার সদস্য অব্যাহতি চান। সর্বশেষ কমিটির প্রধান সাবেক মহানগর কৌঁসুলি ও আইনজীবী আবদুস সাত্তার জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের কাছে কমিটি থেকে অব্যাহতি চান।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) কমিটির প্রধান সাবেক মহানগর কৌঁসুলি ও আইনজীবী আবদুস সাত্তার জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের কাছে এ সুপারিশ করেন।
জানা গেছে, আইনজীবী হত্যার ঘটনার পর সমিতির পক্ষ থেকে গত ১০ নভেম্বর পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ১৫ নভেম্বর রিপোর্ট দিতে বলা হয়। এর মধ্যে সদস্যসচিবসহ চার জন পদত্যাগ করেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ছয়টি মামলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান আবদুস সাত্তার জানান, আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ ও আইনজীবী হত্যার ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির তৈরি তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব কাশেম কামালসহ সব সদস্য ইতোমধ্যে অব্যাহতি চেয়েছেন। এজন্য আমিও পদত্যাগ করছি। কারণ, চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারক দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।
আবদুস সাত্তার আরও জানান, চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর এই মামলার শুনানি কেন দ্রুত শেষ করা হয়নি, আগাম গোয়েন্দা তথ্য ছিল কি-না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। এছাড়া প্রিজন ভ্যানে চিন্ময়ের কাছে হ্যান্ডমাইক কীভাবে গেল, পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি কীভাবে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেলেন—এসব বিষয়ে কাদের গাফেলতি ছিল সেটিও শনাক্ত করতে হবে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা এসব বিষয় তদন্ত করছে।
গত ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর হলে তার অনুসারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ হয়। এ সময় সাইফুল ইসলাম আলিফ নামে এক আইনজীবীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন বাদি হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধাদান, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা হয়।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যায় জড়িত অভিযোগে ১০ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। এদের মধ্যে চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য সম্প্রতি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।