১১ কোটির প্রকল্পে রাস্তা খুঁড়ে উধাও ঠিকাদার, দুর্ভোগে এলাকার মানুষ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা-ডাঙারচর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত ১১ কোটি ১২ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

১১ কোটির প্রকল্পে রাস্তা খুঁড়ে উধাও ঠিকাদার, দুর্ভোগে এলাকার মানুষ 1

সড়কটি সংস্কারের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলেও তা অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদার বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। প্রায় এক বছরেও প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই, এতে এলাকাবাসীর ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু উপজেলা প্রশাসনের কোনো নজর নেই।

কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের মেরিন একাডেমি থেকে ডাঙারচর ইয়াসিনের ঘাট পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র ভরসা। প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জন্য এই সড়কের বিকল্প কোনো পথ নেই। পূর্বে এটি একটি কাঁচা রাস্তা ছিল, যা বর্ষা মৌসুমে চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে যেত।

এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ‘বৃহত্তর চট্টগ্রাম পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩’-এর আওতায় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রথম ধাপে এক কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ১ কোটি ৬২ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই সড়কের বাকি ৪.৭৬ কিলোমিটার সংস্কারে আরও ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুই প্রকল্প মিলিয়ে মোট বরাদ্দ ছিল ১১ কোটি ১২ লাখ ২০ হাজার ১৫১ টাকা। কিন্তু সড়কটির বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে রেখেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতা ও প্রশাসনের নীরবতায়
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইরফানুল করিম চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু করলেও মাঝপথে প্রকল্পটি বিক্রি করে দেন।

প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি চলতি বছরের অক্টোবর মাসে কাজ বিক্রি করেন এবং এর পরপরই বিদেশে পাড়ি জমান।

এদিকে সড়ক সংস্কারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে।

উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, ‘কাজে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছেন।’ তবে ঠিকাদারের বিদেশে চলে যাওয়া এবং প্রকল্প বিক্রি করার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ডাঙারচর এলাকার বাসিন্দারা জানান, সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় শিক্ষার্থী, পোশাকশ্রমিক এবং কৃষকদের পণ্য পরিবহনসহ নিত্যদিনের কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি চিকিৎসাসেবা পেতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, রাস্তা সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ না হলে আমাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। প্রশাসনের প্রতি আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই।

সাবেক জনপ্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম বলেন, সড়কটি উঁচু করে টেকসইভাবে নির্মাণ করা হলে ডাঙারচরের কষ্ট লাঘব হবে। এলাকাবাসী একটি স্থায়ী সমাধান চায়।”

ঠিকাদার মোহাম্মদ ইরফানুল করিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং চট্টগ্রাম এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি তারা।

চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) কাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। তবুও খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেবো।

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm