চট্টগ্রাম নগরের অন্যতম প্রধান বিপণিকেন্দ্র টেরিবাজারের কেবি অর্কিড প্লাজায় আগুনে দুটি জীবন নিভে গেল—নিরাপত্তা প্রহরী ও জুতার দোকানের কর্মচারী আবিদ সোলায়মান ও দর্জি মোহাম্মদ ইউনুছ। ঘটনা শুধু একটি ভবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, এটি কেড়ে নিয়েছে দুটি পরিবারের ঈদের আনন্দ। অগ্নিকাণ্ডে নয়, বরং নীরবে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ধোঁয়ার কাছে হার মানা তাদের মৃত্যুর কারণ।

মুনতাছির সোলায়মান আবিদ মাত্র তিন মাস বয়সী সন্তানের মুখে হাসি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পাচুরিয়া গ্রামের এই তরুণ দিন-রাত পরিবারের জন্য সংগ্রাম করতেন, রাত জুতার দোকানে কাজ করতেন, দিনের পর দিন প্রবাসে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।
বুধবার ভোর রাতে সেহেরির পর ৬ষ্ঠ তলায় একটু ঘুমের জন্য শুতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ঘুম আর ভাঙেনি। চাচা নাছির উদ্দীন জানান, ধোঁয়া এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। ঈদে নতুন জামা আর বাবার কোলে ওঠার অপেক্ষায় থাকা শিশুটি এবার শুনবে, ‘তোমার বাবা আর ফিরবে না’।
২৪ বছরের জীবন সুঁই-সুতোয় বোনা মোহাম্মদ ইউনুছেরও শেষ হয়ে যায় এক রাতের মধ্যে। পটিয়ার জিরি ইউনিয়নের সাইদাঁইর গ্রামের এই দর্জি দুই যুগ ধরে জীবনের গল্প বুনছিলেন। রমজান মাসে বাড়ি না ফিরে কর্মস্থলে থাকতেন, বুধবার রাতেও সেহেরি খেয়ে ৬ষ্ঠ তলায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তিনি পেছনে রেখে গেছেন তিন ছেলে, এক মেয়ে, এবং অসংখ্য অসমাপ্ত দায়িত্ব।
ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, চতুর্থ তলায় সীমাবদ্ধ রাখে অগ্নিকাণ্ড। তবু ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে উপরের তলায়। ভবনের ৬ষ্ঠ তলার একটি মসজিদ থেকে তিনজনকে উদ্ধার করা হলেও আবিদ ও ইউনুছকে বাঁচানো যায়নি।
ঈদে ঘরে আনন্দ নেই, নতুন জামার হাসি নেই, মিষ্টির স্বাদ নেই। পটিয়ার দুটি গ্রামে এখন শোকের বাতাস, যেখানে একটাই কথা, ‘ঈদ আসছে, কিন্তু আমাদের ঘরে আর ঈদ নেই’। নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের নিজ নিজ গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
সিপি



